
অবৈধ এবং ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ পোস্ট দ্রুত সরানোর নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে জানানো হয়েছে, বেআইনি বা বিভ্রান্তিকর কোনও কনটেন্ট নজরে আসার ৩ ঘণ্টার মধ্যে তা সরিয়ে দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশন আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সবাইকে তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০, আইটি রুলস ২০২১ এবং আদর্শ আচরণবিধি (MCC) মেনে সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া ঠিকঠাক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা বা ম্যানিপুলেট করে ছড়ানো কোনও ভুয়ো বা বেআইনি কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মের নজরে আসার ৩ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বরং রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও প্রচার প্রতিনিধিদের জন্যও কড়া নির্দেশ জারি হয়েছে। প্রচারের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কোনও কনটেন্ট AI দিয়ে তৈরি বা ডিজিটালি পরিবর্তিত কনটেন্ট হলে তা স্পষ্টভাবে এআই ক্রিয়েটেড, ডিজিট্যালি এনহান্সড বা সিন্থেটিক কন্টেন্ট হিসেবে উল্লেখ করতে হবে। এর উৎসও জানাতে হবে। এর মাধ্যমেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের আস্থা অটুট রাখতে চাইছে কমিশন।
অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং পশ্চিমবঙ্গের চলতি নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিভিন্ন কনটেন্ট, নির্বাচনী আদর্শ বিধি লঙ্ঘনকারী পোস্ট, আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কনটেন্ট ও ভোট প্রক্রিয়া বা ইভিএম নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো পোস্ট সামনে এলেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
কমিশন সূত্রে খবর, এসবের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আইটি নোডাল অফিসাররা আইটি আইনের আওতায় এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ১৫ মার্চ ২০২৬-এ নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা ইউআরএল চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলির বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে ব্যবস্থা। এর মধ্যে কনটেন্ট সরানো, এফআইআর দায়ের, ব্যাখ্যা চাওয়া এবং খণ্ডন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন লোক প্রতিনিধি আইন, ১৯৫১-এর ধারা ১২৬-এর কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এই আইনে ভোট শেষ হওয়ার আগের ৪৮ ঘণ্টা ও চলাকালীন কোনও নির্বাচনী প্রচার বা কনটেন্ট প্রদর্শন নিষিদ্ধ। টিভি, রেডিও, প্রিন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া সব মাধ্যমকেই এই নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হবে।