
মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও EVM কারচুপি রোধ করা গলে না। দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন ইভিএমে কালো টেপ, আঠা, কালি ও আলকাতরা লাগানোর মতো ঘটনায় ৭৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণায় এই সংক্রান্ত অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। কমিশনের আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, এই সংক্রান্ত ৩২টি অভিযোগ এসেছে ফলতা থেকে, ১৩টি মগরাহাট থেকে, ২৯টি ডায়মন্ড হারবার থেকে এবং ৩টি বজবজ থেকে। কমিশনে প্রাথমিকভাবে ২৩টি ঘটনা প্রমাণিত বলে জানানো হয়েছে।
এর মধ্যে ২০ জন ফলতার বাসিন্দা। সমস্ত অভিযোগ যাচাই করার পর, আজ নির্বাচন কমিশন সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। কোথায় এবং কখন পুনর্নির্বাচন হবে তা আজ জানানো হতে পারে। ২১ এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে প্রথম দফার ভোটের আগে, নির্বাচন কমিশন সমস্ত বুথের প্রিসাইডিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছিল, প্রত্যেক প্রিসাইডিং অফিসার যেন ভোটগ্রহণের আগে ও ভোট চলাকালীন পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে ইভিএম-এ সমস্ত প্রার্থীর বোতাম স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
কোনও প্রার্থীর নাম ও প্রতীকে অংশ বা বোতাম টেপ, আঠা, কালি বা অন্য কোনও কিছু দিয়ে ঢাকা যাবে না। ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করার জন্য, ব্যালট ইউনিটে থাকা প্রার্থীর বোতামগুলোতে এমন কোনও রঙ, কালি, সুগন্ধি বা অন্য কোনও রাসায়নিক পদার্থ লাগানো যাবে না, যা পরবর্তীতে ভোটদাতার পরিচয় প্রকাশ করে দিতে পারে।
এই ধরনের কোনও ঘটনা নজরে এলে প্রিসাইডিং অফিসারকে অবশ্যই অবিলম্বে এবং নিশ্চিতভাবে সেক্টর অফিসার বা রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে। এই ধরনের সমস্ত ঘটনা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এ কারসাজি বা হস্তক্ষেপের সন্দেহে করা হয়। এটি একটি গুরুতর নির্বাচনী অপরাধ।
এরকম কোনও ঘটনা ঘটলে, নির্বাচন কমিশন দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণসহ পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেবে। তাই, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলে জানায়। নিষ্ঠা ও মনোযোগের সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা নিশ্চিত করা উচিত বলে জানানো হয়েছিল। যে ৭৭টি কেন্দ্রে EVM কারচুপির অভিযোগ এসেছে সেখানে পুনর্নির্বাচনের আর্জি জানানো হয়েছে। এবার দেখার কী সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।