
'মোদীর পর প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে রয়েছেন যোগী', বক্তা আর কেউ নন, স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টিভি ৯ বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তিনি এই দাবি করেন। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চাইলেন বিজেপির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর মুখ হতে পারেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
ওই সাক্ষাৎকারে মমতা দাবি করেন, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে যোগী ভয়ের কারণ হয়ে উঠছেন। তাঁরা যোগী ফ্যাক্টর নিয়ে বেজায় চিন্তিত। সেই কারণে দেশকে ভাগ করতে নেমেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
তিনি বলেন, 'যোগী ফ্যাক্টর। ওরা যোগীকে ভয় পায়। যোগীকে টাইট দিতে গিয়েই উত্তরপ্রদেশকে টুকরো টুকরো করার জন্য সারা দেশকে টুকরো টুকরো করতে চাইছে।'
এই কথার মাধ্যমেই তিনি বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চিত্রটা তুলে ধরতে চাইলেন। যদিও তিনি যে যোগীর কাজকর্মে একবারে খুশি নন, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন নিজের বক্তব্যেই।
উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে যা দাবি করলেন...
এই সাক্ষাৎকারে উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি জানান, উত্তরপ্রদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। নারী নিরাপত্তা নেই। পাশাপাশি তাঁর দাবি, যোগীর আমলেই উত্তরপ্রদেশে নারী নির্যাতনের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।
কীভাবে এই তথ্য পেয়েছেন মমতা?
এই সাক্ষাৎকারেই তিনি এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বিজেপির কোনও নেতার সঙ্গেই তাঁর সুসম্পর্ক নেই। তিনিও সূত্র মারফতই এই তথ্য পেয়েছেন।
যোগী নিয়ে আগে যা দাবি করেছেন...
কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গে ভোটের প্রচারে এসেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। সেই সময় তিনি বুলডোজার দাওয়াইয়ের পরামর্শ দেন। তিনি জানান, এই রাজ্যে বিজেপি এলেও বুলডোজার চলবে। আর যোগীর এহেন বার্তারই তীব্র নিন্দা করেন মমতা।
তৃণমূল নেত্রী দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বুলডোজার নীতি বাংলায় চলবে না। ওখানে মানুষের মধ্যে বিভেদ করার জন্য বুলডোজার চালানো হয়। মানুষের বাড়িঘর ভাঙার জন্য বুলডোজার চলে। তবে তিনি থাকতে বাংলায় এসব হতে দেবেন না। তিনি সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে চলবেন। সবাইকে নিয়ে শান্তিতে বাস করবেন।