
Mamata Banerjee: 'পরের বার কিছু বলতে হলে সংসদে দাঁড়িয়ে বলবেন... জাতির উদ্দেশে ভাষণ ভীরু ও দ্বিচারিতাপূর্ণ'। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এভাবেই আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরদিনই পাল্টা আক্রমণে তৃণমূল নেত্রী জানান, নারী সংরক্ষণের বিরুদ্ধে তাঁরা কখনওই বিরোধিতা করেননি। বরং দীর্ঘদিন ধরেই মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করছে তৃণমূল। তাঁর দাবি, লোকসভায় তাঁদের নির্বাচিত সাংসদদের প্রায় ৩৭.৯ শতাংশ মহিলা। রাজ্যসভায় মনোনীত সদস্যদের মধ্যে ৪৬ শতাংশই মহিলা। তাই নারী সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করার প্রশ্নই ওঠে না।
তবে একই সঙ্গে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, নারী সংরক্ষণের আড়ালে ডিলিমিটেশন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। এতে দেশের সংবিধান ও ফেডারেল কাঠামোর উপর আঘাত আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, 'বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধান বদলে দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে।' এটিকে তিনি 'গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ' বলেও উল্লেখ করেন।
মমতা প্রশ্ন তোলেন, ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিল পাশ হওয়ার এতদিন পরও কেন তা কার্যকর করা হল না? কেন একাধিক রাজ্যে ভোটের মুখে হঠাৎ করে এই ইস্যু সামনে আনা হল? তাঁর মতে, বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে, শনিবারের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী নারী সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দলকে দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা সংকীর্ণ রাজনীতির জন্য দেশের মহিলাদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে। এমনকি কিছু দল বিল খারিজ হওয়ায় হাততালি দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, 'দেশের কোটি কোটি মহিলা এই ঘটনা দেখেছেন। তাঁদের স্বপ্ন ভেঙে যেতে দেখেছে দেশ।'
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কংগ্রেস বহু পুরনো ভুল শুধরানোর সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া করেছে। তাঁর কথায়, 'পরজীবীর মতো কংগ্রেস আঞ্চলিক দলগুলির উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে।' পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এই বিলের বিরোধিতা করে বিরোধীরা রাজনৈতিক চক্রান্ত করেছে।
নারী সংরক্ষণ বিল ঘিরে কেন্দ্র ও বিরোধীদের এই সংঘাত আগামিদিনে আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে ভোটের আবহে এই ইস্যু যে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।