
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নজিরবিহীন জয়ের পর উচ্ছ্বাসে ভাসছে গেরুয়া শিবির। এই আবহেই গরদের ধুতি-পাঞ্জাবী পরে একদন বাঙালি বাবুর সাজে দিল্লির বিজেপি সদর দফতরে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাষণ দেবেন বলে জানা গেছে। আগেই সেখানে উপস্থিত হয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অঙ্গ ও কলিঙ্গ জয় করার পর বাংলায় ‘পদ্ম’ ফুটল, এই বার্তাই উঠে এসেছে মোদীর প্রতিক্রিয়ায়। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, '২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং সুশাসনের রাজনীতি জয়ী হয়েছে। আমি বাংলার প্রতিটি মানুষকে প্রণাম জানাই।'
তিনি আরও আশ্বাস দিয়েছেন, বিজেপি এমন একটি সরকার গড়বে যা সকল শ্রেণির মানুষের সুযোগ, মর্যাদা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। জনগণের এই ‘অভূতপূর্ব রায়’-কে সম্মান জানিয়ে রাজ্যের মানুষের স্বপ্নপূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, অমিত শাহ বাংলার মানুষকে ‘কোটি কোটি প্রণাম’ জানিয়ে এই রায়কে ভয়, তোষণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে জোরালো জবাব বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, এই জয় প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
শাহ আরও বলেন, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আজ সর্বত্র বিজেপির পতাকা উড়ছে। এই সাফল্য দলের অসংখ্য কর্মীর ত্যাগ, সংগ্রাম ও আত্মবলিদানের ফল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। হিংসা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা দলকে আঁকড়ে রেখেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরবের কথাও তুলে ধরেন শাহ। চৈতন্য মহাপ্রভু, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর স্মৃতি উজ্জ্বল এই বাংলার ‘হারানো গৌরব’ ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, বিজেপির এই জয়কে দল শুধু রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখছে না, বরং একে আদর্শ ও বিশ্বাসের জয় হিসেবেই তুলে ধরছে। এখন নজর প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভাষণের দিকে, যেখানে বাংলার জন্য আগামী দিনের রূপরেখা উঠে আসতে পারে।