
বাতিল ভোটারদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, এই রায়ের জন্য তিনি নিজে গর্বিত এবং অত্যন্ত খুশি। কারণ, তাঁর উদ্যোগেই এই মামলা শীর্ষ আদালতে গিয়েছিল।
ভোটের প্রচারে উত্তরবঙ্গে থাকা অবস্থাতেই কোচবিহারে এই সুখবর পান মমতা। দিনহাটা থেকে হেলিকপ্টারে ওঠার পরই তিনি রায়ের কথা জানতে পারেন। কোচবিহারের হেলিপ্যাডে নেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'সকলকে অভিনন্দন। প্রথম থেকেই আমি সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলেছিলাম। বিচারব্যবস্থার জন্য আমি গর্বিত। আমিই মামলা করেছিলাম, তাই আজ আমার চেয়ে খুশি আর কেউ নয়।'
এই রায়ের পর দলের কর্মীদের জন্যও বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাইবুনালের কাজ শেষ হওয়ার পর যে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে, তা হাতে পেয়েই দ্রুত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ বিলি করতে হবে। তাঁর কথায়, '২১ তারিখ প্রথম দফার ভোটের জন্য অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হবে, ভোটের মাত্র দু’দিন আগে। ওই তালিকা পাওয়ার পরই বুথের কর্মী ও নেতাদের বলছি, রাতের মধ্যেই স্লিপ তৈরি করে প্রত্যেকের বাড়িতে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে বাদ পড়া ভোটাররাও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।'
একই নির্দেশ ২৯ এপ্রিলের দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। ভোটারদের আশ্বস্ত করে মমতা বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ট্রাইবুনাল থেকে অনুমোদন পেলেই ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লক্ষাধিক নাম বিবেচনাধীন ছিল। কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা সেই নামগুলির নিষ্পত্তি করেন। এরপর যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইবুনালে আবেদন করেন। কিন্তু ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় এবং নিয়ম অনুযায়ী ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
এই প্রেক্ষিতেই শীর্ষ আদালত রায় দেয়, ভোটের মাত্র দু’দিন আগে ট্রাইবুনাল অনুমোদন পেলেও সংশ্লিষ্ট ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তেই স্বস্তি ফিরেছে বহু মানুষের মধ্যে, আর সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীও প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।