
সোমবার বিকেলে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ সহ বিহারের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চিৎপুর থানার একটি দল এই দুষ্কৃতিকে বি.টি. রোডের সামনে থেকে আটক করে। এই ব্যক্তির নাম শামিম আলম। বয়স ৪০। তার বাবার নাম সালিম মিয়াঁ। এই ব্যক্তি বিহারের নওদা জেলার রতনি এলাকার বাকাসোতি গ্রামের বাসিন্দা।
এই ব্যক্তির থেকে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি মিলেছে কার্তুজ-
১) তিনটি (০৩) সিঙ্গল শটার আগ্নেয়াস্ত্র
২) একটি (০১) ৭ মিমি পিস্তল
৩) চারটি (০৪) খালি ম্যাগাজিন
৪) ৮ মিমি ক্যালিবারের ১৪ রাউন্ড কার্তুজ
৫) ৭ মিমি ক্যালিবারের ১০০ রাউন্ড কার্তুজ
এই বাজেয়াপ্ত হওয়া অস্ত্র ও কার্তুজ নিয়ে শমিমকে প্রশ্ন করে পুলিশ। কিন্তু তার পক্ষ থেকে কোনও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলেই খবর। তারপরই এসটিএফ-এর তরফ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।
যতদূর খবর, এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স থানায় একটি নির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজই অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা হবে।
কেন এত আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ?
গতকাল ধরা পড়ার পরই শামিমের দিকে একাধিক প্রশ্ন ছুড়ে দেয় স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। তার কাছে জিজ্ঞেস করা হয়, কী কারণে সে এত সংখ্যক কার্তুজ ও আগ্নেয়াস্ত নিয়ে বাংলায় এসেছে? কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল? যদিও এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলেছে কি না, সেই বিষয়ে এখনও কিছুই জানান হয়নি স্পেশাল টাস্ট ফোর্সের তরফে।
ভোটের আগেই খাস কলকাতায় এমন ঘটনা
২৯ এপ্রিল কলকাতায় ভোট। তার আগেই খাস কলকাতার বিটি রোডের উপর এক ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার করল এসটিএফ। আর এই ঘটনা সামনে আসার পরই ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দ্বিতীয় দফার ভোটে বড় কোনও তাণ্ডব চলবে না তো? সেই প্রশ্নও আসছে অনেকের মাথায়।
যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে অভয় দেওয়া হয়েছে। তাদের তরফে দাবি, কড়া নিরপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে গোটা রাজ্যেই। বিশেষত, যেই সব এলাকায় ভোট, সেখানেই নিরাপত্তার আঁটুনি শক্ত করা হয়েছে। চলছে নাকা চেকিং। তাই এবারের ভোটে ঝামেলার আশঙ্কা অনেকটাই কম বলে মনে করছে তারা। এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে যায়।