
পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র সরকার। পেট্রোলে ইথানলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ই৮৫ (E85) জ্বালানি চালু হতে পারে, যেখানে পেট্রোলের সঙ্গে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানো হবে। পাশাপাশি ই১০০ (E100) জ্বালানির কথাও বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে যানবাহন সম্পূর্ণ ইথানলে চালানো সম্ভব হবে। এতদিন পর্যন্ত দেশে ই২০ (E20) জ্বালানি নিয়েই আলোচনা চলছিল, যেখানে পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হয়। এবার সরকার সেই সীমা আরও বাড়াতে চাইছে।
এই খসড়া বিজ্ঞপ্তি জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্র নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন। সেই মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
এর আগে গত বছর দেশজুড়ে ই২০ জ্বালানি চালু করা হয়েছিল। এখন তার থেকেও একধাপ এগিয়ে উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রণের দিকে ঝুঁকছে কেন্দ্র। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাস করা।
খসড়া প্রস্তাবে নতুন জ্বালানি শ্রেণিবিভাগের কথাও বলা হয়েছে। যেমন, E10, E20, E85 এবং E100, এইভাবে বিভিন্ন স্তরে পেট্রোল-ইথানল মিশ্রণ নির্ধারণ করা হবে। একইভাবে বায়োডিজেলের ক্ষেত্রেও B10 থেকে B100 পর্যন্ত শ্রেনি নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
তবে এই পরিবর্তন কার্যকর করতে হলে যানবাহনেও প্রযুক্তিগত বদল আনতে হবে। উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রণে গাড়ি চালানোর উপযোগী ইঞ্জিন প্রয়োজন হবে। ফলে ধাপে ধাপে এই রূপান্তর ঘটানো হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ আর পেট্রোল-ডিজেলের নয়। তিনি গাড়ি নির্মাতাদের দ্রুত বিকল্প জ্বালানির দিকে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রচলিত জ্বালানি শুধু ব্যয়বহুল নয়, দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্যও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।