
পুলিশের অনুমতি না মেলায় ২৩ এপ্রিলের সভা বাতিল হওয়ার একদিন পরেই ফের নতুন সূচি ঘোষণা করল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী কলকাতা ও শ্রীরামপুরের সভা হবে ২৫ এপ্রিল। পুলিশ প্রশাসনের ছাড়পত্র পাওয়ার পর এমনটাই জানিয়েছেন দলের এক কর্মকর্তা।
তিনি জানান, '২৫ এপ্রিল প্রথম সভাটি হবে কলকাতার শহিদ মিনার ময়দানে, দুপুর প্রায় ২.৩০ নাগাদ। এরপর দ্বিতীয় সভাটি অনুষ্ঠিত হবে হুগলির শ্রীরামপুরে।' এই সভাগুলি ঘিরে ইতিমধ্যেই কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
এর আগে ২৩ এপ্রিল রাহুল গান্ধীর তিনটি সভা হওয়ার কথা ছিল—কলকাতার পার্ক সার্কাসের রামলিলা পার্ক, মেটিয়াবুরুজ এবং শ্রীরামপুর স্টেডিয়ামে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত সেগুলি বাতিল করতে বাধ্য হয় কংগ্রেস নেতৃত্ব।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয় রাজ্যে। কংগ্রেসের অভিযোগ, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবে পুলিশ প্রথমে অনুমতি দেয়নি। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দাবি করেছেন, 'মালদা ও মুর্শিদাবাদে রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক সভাগুলিতে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছে। সেই সাফল্যেই ভয় পেয়ে তৃণমূল ও বিজেপি ভয় পেয়েছে।'
এদিকে রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ২৯৪ আসনের এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে দুই দফায়—২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল। ভোটগণনা হবে ৪ মে। সব দলই শেষ মুহূর্তের প্রচারে জোর দিচ্ছে, আর সেই প্রেক্ষিতেই রাহুল গান্ধীর সভাগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সভাগুলির মাধ্যমে কংগ্রেস রাজ্যে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করার চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে শাসক ও প্রধান বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তাও দিতে চাইবে।
সব মিলিয়ে, সভা বাতিল থেকে নতুন করে অনুমতি পাওয়া- এই ঘটনাপ্রবাহ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, ২৫ এপ্রিলের সভাগুলি কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে রাজ্যের ভোটের ময়দানে।