
বাংলার বাতাসে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ১৯০ আসনে এগিয়ে বিজেপি। মাত্র ৯৯ সিটে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অর্থাৎ নবান্ন থেকে প্রায় বিদায় নিশ্চিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে এবার বসতে চলেছেন বিজেপির কোনও নেতা।
১৫ বছর পর বাংলা আবার পরিবর্তন দেখতে চলেছে। ক্ষমতা হারাতে চলেছেন মমতা। 'ল্যান্ড স্লাইড ভিকট্রির' দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। প্রথমবারের জন্য বাংলার মসনদে বসার জন্য এগিয়ে আসছে বিজেপি। অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ জয়ের লক্ষ্যপূরণ করতে চলেছে তারা।
এখন প্রশ্ন হল, ঠিক কেন এভাবে হারের মুখ পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস? কোথায় ফুরিয়ে গেল মমতা ম্যাজিক? আর সেই উত্তরটাই খোঁজার চেষ্টা করলাম আমরা।
হিন্দু-মুসলিম ফ্যাক্টর
এই ভোটে হিন্দু-মুসলিম ফ্যাক্টর যে ভীষণভাবে কাজ করেছে, সেটা পরিষ্কার। আর এই কথাটা আজ স্বীকারও করে নিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আজ সকালেই বলেছেন, 'হিন্দু ইভিএম বিজেপির। আর মুসলিম ইভিএম তৃণমূলের।' আর শুভেন্দুর এই বক্তব্যের প্রতিফলন যে সত্যিই ভোটবাক্সে দেখা গিয়েছে, আজকের রেজাল্ট অন্তত সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে।
তৃণমূলের ভোট মেশিনারি অচল
নিন্দুকেরা এতদিন দাবি করে এসেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট করায় মেশিনারি। তাঁরা ছাপ্পা, রিগিং করে, মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট করায়। তাই জেতে। নইলে তৃণমূলের হারতে সময় লাগবে না।
আর এই বিষয়টাকে এবার বোধহয় সিরিয়াসলি নিয়ে নিয়েছিল কমিশন। তাই প্রথম থেকেই তৃণমূলের ভোট মেশিনারিকে ঘরে আটকে দেওয়ার বন্দোবস্ত করেছিল তারা। এই ভোটে রেকর্ড সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হয়। পাশাপাশি পুলিশকেও রাখা হয় 'অ্যাক্টিভ'। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল নিজের ভোট মেশিনারি ব্যবহার করতে পারেনি বলেই খবর। তাতেই তারা হারের মুখ দেখছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
বড় ইস্যু SIR
এই নির্বাচনের আগেই ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন করেছে কমিশন। আর এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রথম থেকেই চিৎকার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও বিজেপি দাবি করে এসেছে, রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য এই প্রক্রিয়া চলেছে। সেই নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যায় তৃণমূল। তবে তাদের কথাকে সেভাবে পাত্তা দেয়নি দেশের শীর্ষ আদালত। রাজ্যে SIR হয়। তাতে বাদ যায় প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটার। আর ভোটের ফলাফল বলে দিচ্ছে যে SIR বিজেপির পক্ষেই গিয়েছে।
নিচু তলার কর্মীদের মধ্যে বিক্ষোভ
অনেকেই মনে করছেন, এই ভোটে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই অনেক বড় জটিলতা করেছে। এটাই তাঁদের হারের অন্যতম কারণ। দলের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল করা মানুষেরা দলের মধ্যে জায়গা পাননি। নতুনেরা এসে নেতা হয়ে গিয়েছে। আর সেই রাগের প্রতিফলন এবার দেখা গিয়েছে। তারাও তৃণমূলে ভোট দেয়নি বলে মনে করছেন অনেকে। তাতেই বড় জিতের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বিজেপি।
রেকর্ড ভোটিং
এই বার দুই দফাতেই রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে বাংলায়। প্রায় ৯৩ শতাংশের উপরে ভোট পড়েছে। আর সেই ভোট যে সরকার বিরোধী ভোট ছিল, এটা এখন স্বচ্ছ জলের মতোই পরিষ্কার। তাই রেকর্ড ভোটিংও তৃণমূলের হারের বড় কারণ।
পরিশেষে বলি, ১৫ বছর বাংলা চালিয়েছেন মমতা। তাঁর আমলে সারদা, নারদা, টেট থেকে শুরু করে একাধিক বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে। শিল্প আসেনি। চাকরি হয়নি। এর ফলে প্রতিষ্ঠান বিরোধীতা চরমে উঠেছিল। আর সেই রাগও এবার ভোট বাক্সে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।