
যখনই অসমের রাজনীতির ক্ষমতার অলিগলি নিয়ে আলোচনা হয়, তখনই গুয়াহাটির একটি পুরোনো ভবনের স্মৃতি আলোচনায় উঠে আসে। ছাব্বিশের নির্বাচনেও অসমেও ল্যান্ডস্লাইড জয় পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু এই বিজয় কেবল ভোটের হিসাব-নিকাশের বিষয় নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দারুণ শিক্ষাগত এক ঐতিহ্য। এ পর্যন্ত অসমের ১৫ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ৭ জনই একটি কলেজের ছাত্র। সেই কলেজের নাম কটন বিশ্ববিদ্যালয়।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই কলেজের সপ্তম ছাত্র। যিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এটা কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং সেই কলেজেরই শিক্ষার ঐতিহ্যকে প্রমাণ দিচ্ছে, যা এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অসমকে লিডার উপহার দিচ্ছে।
হিমন্ত শর্মার আগে মহেন্দ্র চৌধুরী, শরৎচন্দ্র সিনহা, যোগেন্দ্রনাথ হাজারিকা, হিতেশ্বর সাইকিয়া এবং ভূমিধর বর্মন সহ রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী গোপীনাথ বরদলৈ-এর মতো নেতারাও আদতে এই কটন কলেজের পড়ুয়া।
এই কলেজ কবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল?
অসমের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কটন বিশ্ববিদ্যালয় ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বলা হয়, স্বাধীনতার আগেও কটন কলেজের খ্যাতি ছিল। অসমের মেধাবী ছাত্রদের উচ্চশিক্ষার জন্য বহু দূর রাস্ত পাড়ি দিয়ে যখন কলকাতা যেতে হত, তখন তৎকালীন চিফ কমিশনার স্যার হেনরি স্টেডম্যান কটনের চেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠানটির পথ চলা শুরু হয়েছিল। তখন এটি ছিল কলেজ।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কটন কলেজ হিসেবেই পরিচিত ছিল। ২০১৭ সালে এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা প্রদান করেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এটি এমন একটি শিক্ষাঙ্গন, যা অসমের ইতিহাস ও নেতৃত্বকে গড়ে তুলছে। রাজ্যের ১৫ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে সাতজনকে তৈরি করেছে এই ইউনিভার্সিটি।