
পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটে সকাল থেকেই বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি ছাড়া এখনও পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে। তবে ২০২৬ সালের ভোটে বেশ কিছু নজিরবিহীন ঘটনাও চোখে পড়ছে। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি বছর ভোটে বিকেলে বাড়ি থেকে বের হন, সেই মমতা আজ অর্থাত্ বুধবার সকাল থেকেই ঘুরছেন ভবানীপুরের নানা এলাকায়। মমতা বারবার অভিযোগ করছেন, বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে রিগিং করার চেষ্টা করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কার্যত একই অভিযোগ করলেন।
'রাফাল, যুদ্ধজাহাজ নামাতে বাকি রেখেছে'
এদিন মিত্র ইনস্টিটিউশনে বুথে ভোটে দিয়ে অভিষেক বললেন, 'ভারতীয় সেনার রাফাল আর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা শুধু বাকি আছে। ওটাও করে দিন না। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যা করা উচিত তা আপনারা বাংলার বিরুদ্ধে করছেন। দ্বিতীয় দফাতেই দফারফা হবে BJP। স্পেশাল অবজার্ভারের কি এক্তিয়ার রয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেইড করার? তাঁরা তো নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট দেবে। এসব করে কোনও লাভ হবে না। তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরবে। ২০২১ সালের চেয়েও বেশি ভোট নিয়ে ক্ষমতায় আসছে তৃণমূল।'
'দ্বিতীয় দফায় বিজেপি-র দফারফা হবে'
অভিষেকের দাবি, হাইকোর্টের অর্ডার থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষদের ভয় দেখাতে এক্তিয়ার বিরুদ্ধ কাজ করা হচ্ছে। এমনিতেই গায়ের জোরে ৩০ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। এতে কোনও লাভ হবে না। প্রথম দফায় বিজেপি কুপোকাত হয়ে গিয়েছে। এই দফায় দফারফা হবে।
কমিশনের বিরুদ্ধেও তোপ দাগলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। বলছেন, 'এক্তিয়ার বিরুদ্ধ কাজ করছে। সিআরপিসি-র কোথাও কোনও প্রভিশন নেই। বিএনএসের প্রভিশন নেই। নির্বাচন কমিশনের কোনও গাইডলাইন নেই। কোনও অবজার্ভারকে অধিকার দেওয়া নেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেড করার। অবজার্ভাররা নির্বাচন কমিশনের চোখ ও কান হিসাবে কাজ করবে এবং রিপোর্ট দেবে এসপি-কে। রিপোর্ট দেবে নির্বাচন কমিশনকে। তারপর নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে কী করা উচিত। কিন্তু তারা বিভিন্নভাবে ধমকানো, চমকাচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে কোনও কেস নেই, সেই সব তৃণমূল কর্মীদের শাসাচ্ছে-চমকাচ্ছে। এইসব করে কোনও লাভ হবে না।'
আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে নিশানা
অভিষেকের কথায়, 'উত্তর প্রদেশ থেকে এক অফিসার নিয়ে আসা হয়েছে ফুটেজ খেতে। নিজের ফুটেজ বেরিয়ে গিয়েছে। নির্বাচনের রুল বুক মেনে কাজ করছেন না পর্যবেক্ষকরা। এই সব কোনও ট্রিকই কাজ করবে না। ব্যালট খুললে ছবি স্পষ্ট হয়ে যাবে। তৃণমূল কংগ্রেস আরও বেশি ভোট ও সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে।'