
আপনি কি জানেন, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে যে প্রার্থীরা ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে টস কিংবা লটারির মাধ্যমে। অবাক হচ্ছেন? বাস্তবেই এমনটা হতে পারে আগামী ৪ মে।
একটি নির্দিষ্ট বিধানসভা আসনে, সমস্ত পোলিং বুথের ভোটের গণনা শেষ হলে তবেই সেই কেন্দ্রের বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে ৪ মে। নির্দিষ্ট আসনের বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে একটি সার্টিফিকেট ইস্যু করবে নির্বাচন কমিশন।
কিন্তু যদি গণনার পর দেখা যায় কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে দুই প্রার্থী সমসংখ্যক ভোট পেয়েছেন, সেক্ষেত্রে তো টাই হয়ে যাবে। তাহলে নির্বাচন কমিশন বিজয়ী ঘোষণা করবে কাকে? এ প্রশ্নের অনেকগুলি জবাব রয়েছে কমিশনের কাছে।
নির্বাচনী লড়াই প্রকৃত অর্থেরই ভাগ্য নির্ধারণ করে একজন রাজনীতিবিদের। টাই হলে, ভাগ্য যাঁর পক্ষে সহায় হয় সেই বিজয়ী হয়। ভাবছেন কীভাবে? রিপ্রেজেনটেশন অফ পিপলস অ্যাক্টের ১০২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও কেন্দ্রের দুই প্রার্থী সমসংখ্যক ভোট পেলে একাধিক ভাবে তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ওই দুই প্রার্থীর মধ্যে টস হবে। টসে যে জিতবেন, সেই হবেন ওই কেন্দ্রের বিজয়ী। এক্ষেত্রে টসে জেতাকে একটি অতিরিক্ত ভোট পাওয়া ধরে নেওয়া হয়।
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে কি এমন কখনও ঘটেছে?
উত্তর হল, হ্যাঁ। ২০১৮ সালে অসমের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৬ কেন্দ্রে প্রার্থীদের মধ্যে টাই হয়েছিল। টসের মাধ্যমে সেই ৬ কেন্দ্রের বিজয়ী প্রার্থীকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে BJP প্রার্থীকে টসের মাধ্যমে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় মথুরা বৃন্দাবন পুরসভার ভোটে। ওই পুরসভার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের BJP প্রার্থী মীরা আগরওয়াল এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস প্রার্থীর ভোটের পরিমাণ ছিল সমান (৮৭৪)। এরপর টসে হেরে যান কংগ্রেস প্রার্থী। ফলত জয়ী ঘোষণা করা হয় মীরা আগরওয়ালকে। আবার ওই বছরই ফেব্রুয়ারি মাসে বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ভোটেও এমনই একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। লটারির মাধ্যমে ২২০ নম্বর ওয়ার্ডের BJP প্রার্থী অতুল শাহকে জয়ী বেছে নেওয়া হয়। প্রথমে যখন গণনা হয়েছিল তখন অতুল শাহ শিবসেনার সুরেন্দ্র বাগলকারের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। তবে রেজাল্ট চ্যালেঞ্জ করে পুনর্গণনা চান অতুল। পুনর্গণনার সময়ে দেখা যায় টাই হয়েছে দুই প্রার্থীর মধ্যে। দু'জনের ভোটই সমান। সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে আরও ২ বার কাউন্টিং হয়। তবে প্রত্যেকবারই দেখা যায়, দু'জন সমান ভোট পেয়েছেন। এরপর লটারি হয় এবং অতুল শাহের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে।
তবে এই টাইব্রেকার পদ্ধতিরও অনেক খামতি রয়েছে। কারণ ২ জনের বদলে যদি কোনও কেন্দ্রের ৩ জন প্রার্থীই সমপরিমাণ ভোট পান, সেক্ষেত্রে টস হবে কীকরে। যদিও এই ধরনের পরিস্থিতি লাখে একবারই হয়, তবে হলে, সেক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে বিজয়ী ঘোষণা করতে।