
বুধবার রাতে খুন হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। আর সেই ঘটনায় অভিযোগের তীর মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। যদিও ইতিমধ্যেই এই হত্যার কড়া নিন্দা জানিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তাদের পক্ষ থেকে সমাজ মাধ্যমে এই ঘটনার জন্য আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনা সামনে আসার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে লেখা হয়, 'আমরা আজ রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। পাশাপাশি, গত তিন দিনে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও বিজেপির দুষ্কৃতীদের হাতে নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় আরও তিনজন তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক।'
এখানেই শেষ না করে তৃণমূল এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছে। তাদের পক্ষ থেকে সমাজ মাধ্যমে লেখা হয়, 'আমরা এই ঘটনায় কঠোরতম পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি। এই ঘটনায় আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। তাতে দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। গণতন্ত্রে হিংসা ও রাজনৈতিক খুনের কোনও জায়গা নেই। দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।'
যদিও বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ তৃণমূলের এহেন বার্তাকে 'কুমিরের কান্না' বলেই মনে করছেন। তাদের মতে, ভোটের হার মেনে নিতে পারেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তাই সেই দলের দুষ্কৃতীরা এই ধরনের নৃশংস কাজ করছে।
ইতিমধ্যেই বিজেপির সব শীর্ষ স্থানীয় নেতাই এই খুন নিয়ে মুখ খুলেছেন। দোষীদের দ্রুত শাস্তির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী খুন করা হয়েছে। ডিজিপিও একই কথা বলেছেন। ২-৩ দিন ধরে রেকি করা হয়েছিল। পুরো হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পনা করেই ঘটানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।'
পাশাপাশি তিনি জানান, এই ঘটনায় পর নিন্দা জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। দিল্লি থেকে নেতৃত্ব এই ঘটনার খবর নিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মৃতের পরিবারের সঙ্গে এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে দলের নেতা ও বিধায়কেরা এখানে এসেছেন। এছাড়া তাঁর দাবি, পুলিশ ইতিমধ্যেই কিছু প্রমাণ পেয়েছে। তাঁরা তদন্ত করছে।
মাথায় রাখতে হবে, গতকাল রাতে বিধানসভায় কিছু কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ। সেই সময় তাঁর স্করপিয়োর পিছু নেয় একটি ছোট ধূসর রঙের গাড়ি। এরপর আচমকাই চন্দ্রনাথের গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায় সেই ছোট গাড়িটি। তার পরেই স্করপিয়ো থামতেই পিছন দিক থেকে একটি মোটরবাইক এসে পৌঁছয়। বাইকে থাকা দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে গুলি চালাতে শুরু করে। তাতেই মৃত্যু হয় তাঁর। আর এই ঘটনার পরই উত্তপ্ত হয়েছে পরিস্থিতি।