
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে যে-ই জিতুক, সেই দলকেই কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি সঙ্কটে না থাকলেও চাপের মধ্যে রয়েছে তো বটেই।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই লড়াইয়ে রাজ্যের অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু। আগামী সরকারকে উচ্চ ঋণ, তুলনামূলক বেশি আর্থিক ঘাটতি এবং বৃহৎ কল্যাণমূলক ব্যবস্থাকে চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব উত্তরাধিকার হিসেবে নিতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয় গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তা এখনও জাতীয় গড়ের নীচে। নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে রাজ্যের মাথাপিছু আয় প্রায় ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা। যেখানে জাতীয় গড় ১.০৬ লক্ষ টাকারও বেশি।
এই ব্যবধান দুই দশক ধরে বজায় রয়েছে। একই সময়ে বেকারত্ব কিছুটা কমেছে। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায়। তবে শহুরে বেকারত্ব এখনও তুলনামূলক ভাবে বেশি।
রাজ্যের আর্থিক ঘাটতি বেশিরভাগ বছরেই ৩ শতাংশের কাছাকাছি বা তার উপর রয়েছে। ২০১০-১১ সালে এটি ৪.২৪ শতাংশ পৌঁছেছিল এবং মহামারীর সময়ে আবার প্রায় ৩.৯ শতাংশে উঠেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলিতেও এটি প্রায় ৩.৩ শতাংশের আশপাশে রয়েছে।
এর পাশাপাশি রাজ্যটি দীর্ঘদিন ধরেই কল্যাণমূলক খরচনির্ভর নীতি অনুসরণ করছে। যেখানে ভর্তুকির জন্য বড় অঙ্কের ব্যয় হয়। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রাজ্য অর্থনীতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ সালে ভর্তুকির খরচ ২১ হাজার কোটি টাকারও বেশি হয়েছে।
রাজ্যের মোট ঋণ দেশের মধ্যে অন্যতম বেশি। GSDP-র প্রায় ৩৮ শতাংশ এই পরিসংখ্যান। যা চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত রাজ্যের মধ্যমেয়াদি আর্থিক নীতির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঋণের বোঝা বেশি হওয়ায় বাজেটের একটি বড় অংশ সুদ পরিশোধে খরচ হয়। ফলে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ কমে যায়।