
আগামী ৬ এপ্রিল কেরলে বিধানসভা নির্বাচন। জনমত সমীক্ষা বলছে ফের একবার দক্ষিণের এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বামেরা। এই অবস্থায় নিজেদের মাটি শক্ত করতে সবরকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। নির্বাচনী ইস্তেহারে তার ছাপও স্পষ্ট। ভারতে এখন অন্যতম চর্চিত বিষয় ‘লাভ জিহাদ’। ক্ষমতায় আসলে এই নিয়ে আইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গেরুয়া শিবির। সেইসঙ্গে সবরীমালার ঐতিহ্য রক্ষার জন্য আইন আনার আশ্বাসও রয়েছে নির্বাচনী ইস্তেহারে।
কেন্দ্রীয়মন্ত্রী প্রকাশ জাভারেকরের উপস্থিতিতে তিরুবন্তপুরমে ইস্তেহার প্রকাশ করেছে কেরল বিজেপি। এতে বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবারগুলিতে ৬টি গ্যাস সিলিন্ডার, হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ, ভূমিহীন এসসি / এসটিদের পাঁচ একর জমি এবং অনাহারমুক্ত কেরলের মতো একাধিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
তবে গেরুয়া শিবিরের ইস্তেহারে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সবরীমালা মন্দিরের ঐতিহ্য বজায় রাখা ও লাভ জিহাদ বিরোধী আইন। দক্ষিণ ভারতে এই প্রথম লাভ জিহাদ আইন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। হিন্দু মেয়েদের বিয়ের পর বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করার বিরুদ্ধে আইন আনার কথা বলা হয়েছে। রাজ্যের কোনও মন্দিরে সরকারি নিয়ন্ত্রণ রাখা হবে না বলেও জানানো হয়েছে ইস্তেহারে। বলা হয়েছে যে, মন্দিরের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ভক্ত-অনুগামী ও পুজারিদের হাতে থাকবে। সবরীমালা মন্দিরের প্রাচীন রীতি-নীতিও রক্ষা করা হবে। বছর তিনেক আগেই এই সবরীমালায় মহিলাদের প্রবেশাধিকারের প্রশ্নে উত্তাল হয় গোটা দেশ। মূলত কেরলের শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে ধর্মীয় মেরুকরণের বীজ বপণ করেই বামদুর্গে ফাটল ধরাতে চাইছে বিজেপি।
বাংলার মতো কেরলও উন্নয়নের কথা
সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলার জন্য ইস্তেহার প্রকাশ করেছিলেন অমিত শাহ। কেরলেও সেই উন্নয়ন প্রকল্পের ওপরেই জোর দেওয়া হয়েছে। বিজেপি দাবি করেছে, কেরলে সরকার গঠন করতে পারলে কল্যাণমূলক ভাতা বাড়িয়ে মাসে ৩,৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তাছাড়া প্রতি পরিবারে অন্তত একজনের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। গৃহহীনদের বিনামূল্যে বাড়ি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সমস্যার দিকেও নজর দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। পানীয় জল সরবরাহ ও রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ইস্তেহারে বলা হয়েছে, কোনও পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী যদি অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে কাজ হারান, সেক্ষেত্রে সেই পরিবারকে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। কেরলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মূল পরীক্ষার আগে একটি এলিজিবিলিটি টেস্ট হয়। ক্ষমতায় এলে সেই এলিজিবিলিটি টেস্ট তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ সরাসরিই বসা যাবে মূল পরীক্ষায়। সেইসঙ্গে বিজেপি সরকারে এলে কেরলকে সন্ত্রাস মুক্ত রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার কথাও রয়েছে। ইস্তেহারে কেরলের সব শ্রেণির মানুষের কাছেই পৌঁছতে চেয়েছে গেরুয়া শিবির।
প্রকাশ জাভড়েকর বিজেপির ইস্তেহারকে প্রগতিশীল এবং উন্নয়নমুখী বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, 'আমরা বিরোধীদের মতো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিই না। আমাদের যেটা করার ক্ষমতা আছে, তারই প্রতিজ্ঞা করি। কেরলের এই অচলাবস্থা আমরা দূর করব।'এদিকে সম্প্রতি অমিত শাহ প্রচারে এসেছিলেন কেরলে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোল্লামে জনসভায় বক্তব্যে রাখতে গিয়ে বাম এবং কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন যে কমিউনিস্টরা এবং কংগ্রেস পার্টি কেরকে দুর্নীতির অন্ধকারে পাটিয়েছে। কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় ছিল তখন সোলার কেলেঙ্কারি হয়েছিল, আর বাম আমলে হয়েছে ডলার কেলেঙ্কারি। কমিউনিস্টরা পুরো বিশ্বে মুছে গিয়েছেন এবং ভারতে কংগ্রেস পার্টি শেষ হয়ে গিয়েছে।