
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে উঠে এল দমদম এলাকার দীর্ঘদিনের জল জমার ভোগান্তি ও জলজটের সমস্যা। শুক্রবার পানিহাটির জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, 'এখানে ১৫০ বছরের পুরনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখনও চলছে, অথচ জনসংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিআইপি রোড ও যশোর রোডের লাগাতার যানজটে মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। একইসঙ্গে কালিন্দী, জ’পুর, মধুগড়ের মতো এলাকায় পানীয় জলের অভাব এবং বর্ষায় জল জমে থাকার সমস্যাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, 'বাগজোলা খাল উত্তর দমদমের লাইফলাইন, কিন্তু সংস্কারের অভাবে তা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।'
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূল সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে পুরনো পাইপলাইন ও নিকাশি ব্যবস্থাকে বজায় রাখছে, যাতে প্রতি বর্ষায় মেরামতির নামে নতুন করে টেন্ডার ডাকা যায়। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কলকাতা মেট্রোর বিভিন্ন প্রকল্পও আটকে রয়েছে প্রয়োজনীয় অনুমতির অভাবে।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাস্তব চিত্রও একই সমস্যার কথাই বলছে। টানা বৃষ্টির পর দমদম, উত্তর দমদম ও দক্ষিণ দমদম পুর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও বহু জায়গায় জল নামতে চায় না। ফলে বাসিন্দাদের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে উত্তর দমদমের ২, ৩, ৭, ৮, ১১, ১২ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বহু এলাকায় দীর্ঘদিন জল জমে থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমবি রোড, কালচার মোড়, পটনা ঠাকুরতলা, মাঠকল, মধুগড়, জ’পুর ও কালিন্দী এলাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল। কোথাও খাল-জলাশয় উপচে পড়ছে, আবার কোথাও বাড়ির ভিতরেও জল ঢুকে পড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য জরুরি ভিত্তিতে নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন। তবে রাজনৈতিক তরজার মাঝেই এই জলযন্ত্রণা যে দমদমবাসীর কাছে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।