
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় এবং বিজেপির জয় একাধিক রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণের ফল। সংক্ষেপে ৫টি মূল কারণ নীচে তুলে ধরা হল-
১. শক্তিশালী নেতৃত্ব ও মুখ
নরেন্দ্র মোদী ও রাজ্যস্তরে বিজেপির প্রভাবশালী নেতৃত্ব এক বড় ফ্যাক্টর। স্পষ্ট নেতৃত্ব, আক্রমণাত্মক প্রচার এবং একক বার্তা ভোটারদের কাছে সহজে পৌঁছেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব থাকলেও বিরোধী হিসেবে বিজেপি বেশি সংগঠিত ছিল। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মুখে বার বার উঠে এসেছে অনুপ্রবেশ ইস্যু। সেই ফ্যাক্টরও ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
২. সংগঠনের বিস্তার ও বুথ ম্যানেজমেন্ট
বিজেপি গ্রাম থেকে শহর, সব জায়গায় সংগঠন মজবুত করেছে। বুথ স্তরে কর্মী মোতায়েন, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট তাদের বড় সুবিধা দিয়েছে। তৃণমূলের সংগঠনে কিছু ক্ষেত্রে ভাঙন ও অসন্তোষ প্রভাব ফেলেছে।
৩. দুর্নীতির ইস্যু ও জনঅসন্তোষ
শিক্ষক নিয়োগ, কয়লা, গরু পাচারসহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হেনেছে। বিরোধীরা এই ইস্যুগুলিকে সামনে এনে জনমনে ক্ষোভ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি, আরজি কর সহ একাধিক বড় অপরাধে প্রমাণ লোপাট সহ যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। জনমানসে সেই ক্ষোভ ছিল। তার প্রভাবই ভোটবাক্সে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
৪. মেরুকরণ ও পরিচয়ের রাজনীতি
ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ভোটের মেরুকরণ বিজেপির পক্ষে গেছে। নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে একত্রিত করার কৌশল কার্যকর হয়েছে। তৃণমূল এই মেরুকরণের পাল্টা বয়ান শক্তভাবে দাঁড় করাতে পারেনি।
৫. কেন্দ্রীয় প্রকল্প ও ‘ডাবল ইঞ্জিন’ বার্তা
কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে উন্নয়ন দ্রুত হবে, এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ তত্ত্ব বিজেপি জোরালোভাবে প্রচার করেছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছনোর কথাও ভোটে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের চালু প্রকল্পগুলির টাকার অঙ্ক একধাক্কায় ডাবল করেছে বিজেপি। যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পগুলিতে দেওয়া অর্থের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি তাঁদের ইশতেহারে।