
'আমাকে লাথি মেরেছে।' 'ভোট লুঠ হয়েছে।' 'উই উইল বাউন্স ব্যাক (আমরা ফিরে আসব)।' আজ সন্ধ্যায় ভোটগণনা কেন্দ্রের বাইরে এমনটাই বললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ দিন সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা। তাঁর চোখেমুখে তখন রাগ এবং ক্ষোভের অভিব্যক্তি স্পষ্ট। আর এমন সময়ই তিনি দাবি করলেন, তাঁকে মারা হয়েছে। এমনকী ভোট লুট হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর দল আবার ফিরে আসবে বলেও ঘোষণা করে দিলেন।
তিনি বলেন, '১০০টা আসন লুঠ করেছে। এটা অনৈতিক জয়। আমাকে মেরেছে সিআরপিএফ-এর সামনে। আমি টাইম টু টাইম মনোজ আগরওয়ালকে মেসেজ করেছি। কোনও উত্তর আসেনি। কারণ, ওরা ইলেকশন কমিশন নয়, বিজেপি কমিশন। উই উইল বাউন্স ব্যাক।' আর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে বিজেপির তরফ থেকে হারের পর বাহানা বলে কটাক্ষ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'আমাকে লাথি মেরেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বন্ধ করে দিয়েছে। ডিইও আমাদের বলেছিলেন ঢুকতে দেবেন। তারপর থেকে উনি আনঅ্যাভেলেবল হয়ে যান। আমি ৫ মিনিটের জন্য গিয়েছিলাম। আমাকে মেরে বের করে দিয়েছে।'
আর মমতা যখন এই বক্তব্য রাখছেন, তখন তাঁর উদ্দেশে জোর স্লোগান দিতে শুরু করে বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা। 'জয় শ্রীরাম' ও 'চোর চোর' স্লোগান মুখরিত হতে থাকে।
মাথায় রাখতে হবে, ১৫ রাউন্ডের পর ২৯২৯ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন মমতা। পিছিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু। যদিও এখনও ৫ রাউন্ডের গণনা বাকি রয়েছে। সেখানে ফলাফলে বড় বদল আসতে পারে।
ও দিকে বিকেলেই সরগরম হয়ে ওঠে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাইস্কুল। এখানেই চলছে ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটগণনা। আর সোমবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে যান। তারপর সেখানে শুভেন্দু অধিকারীও পৌঁছে যান। তারপরই হুট করে কাউন্টিং বন্ধ হয়ে যায় বলে খবর।
এ দিন বিকেল পৌনে ৪টে নাগাদ শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে যান মমতা। তাঁর গাড়ি সেখানে পৌঁছতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। তাঁকে 'চোর চোর' স্লোগান দেওয়া হয়। ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে যায় এলাকা। এরপরই গণনাকেন্দ্রের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী বাড়ানো হয়।
ও দিকে আবার মমতার পরই সেখানে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। এমন পরিস্থিতিতে গণনাকেন্দ্রের ভিতর মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ায় কারণে মমতা ও শুভেন্দুর ফোন বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হয়। ও দিকে শাখাওয়াতের বাইরে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলতে থাকে BJP ও TMC-র এজেন্টদের মধ্যে।