
ভোট মিটলেও অশান্তি মিটল না বালিতে। বুধবার সন্ধ্যায় ইভিএম (EVM) বের করাকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ডনবস্কো মোড় এলাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতে হয়। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় সোহনলাল স্কুল চত্বরের চেনা ছবিটা।
এদিন সারাদিন ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিকেলের পর থেকেই উত্তজনা দানা বাঁধতে শুরু করে। ভোট শেষ হওয়ার পর যখন নিয়মমাফিক স্কুল থেকে ইভিএম মেশিনগুলি বাইরে বের করে আনার কাজ শুরু হয়, ঠিক তখনই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। স্কুলের বাইরে তখন ভিড় জমিয়েছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শয়ে শয়ে কর্মী ও সমর্থক।
প্রশাসনের তরফে বারবার জমায়েত সরাতে বলা হলেও তাতে আমল দেননি কর্মীরা। উল্টে ইভিএম নিয়ে যাওয়ার সময় ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও প্রবল হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। অভিযোগ, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য হন। একটি ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। (যদিও ভিডিওর সত্যতা আজতক বাংলা যাচাই করেনি) তাতে দেখা যাচ্ছে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করেছে।
লাঠির ঘায়ে মুহূর্তের মধ্যে ফাঁকা হয়ে যায় স্কুল চত্বর। পুলিশি তাড়া খেয়ে গলির মধ্যে ঢুকে পড়েন রাজনৈতিক কর্মীরা। বেশ কিছুক্ষণ টানটান উত্তেজনার পর এলাকায় পুনরায় শান্তি ফিরে আসে। যদিও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় এখন বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা পুলিশ দফতরের এক আধিকারিক জানান, ইভিএমের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবার আগে। ভিড় হটাতে যেটুকু বলপ্রয়োগের প্রয়োজন ছিল, সেটুকুই করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। ভোট পরবর্তী বালির এই মেজাজ এখন হাওড়ার রাজনীতির অন্দরে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে।
এদিকে বুধবার সকালেও ভোট চলাকালীন বালি বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথে EVM বিকল হয়ে যায়। স্তব্ধ হয়ে পড়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মেশিনে গোলমালের কারণে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ভোটাররা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।