
Bimal Gurung Bidhansabha Election 2026: রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। কিন্তু বিমল গুরুংয়ের কাছে এবারের নির্বাচন যেন অস্তিত্ব রক্ষার শেষ লড়াই। সম্প্রতি দার্জিলিংয়ের ম্যালের চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সুপ্রিমো যে ঘোষণা করেছেন, তাতে পাহাড়ের কুয়াশা ছাপিয়ে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। বিমলের সাফ কথা, দার্জিলিং আসনে বিজেপি প্রার্থী নমন রাই জিততে না পারলে তিনি চিরতরে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। আর এই মন্তব্য ঘিরেই পাহাড়ের রাজনীতিতে বিমলের অস্তিত্ব সংকটের আভাস দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের মতামত।
বিমলের এই 'অল আউট' যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে গত কয়েক বছরের টালমাটাল ইতিহাস। ২০১৭ সালের রক্তক্ষয়ী গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন, তারপর দীর্ঘ সময় পাহাড় ছাড়া হয়ে আত্মগোপন, সবই পাহাড়বাসীর স্মৃতিতে টাটকা। একটা সময় কয়েক ডজন মামলায় অভিযুক্ত বিমল গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর আচমকাই কলকাতায় উদয় হয়ে তৃণমূলের হাত ধরেছিলেন। লক্ষ্য ছিল একটাই, পাহাড়ে ফেরা এবং মামলা থেকে নিষ্কৃতি। সেই লক্ষ্যে সফল হলেও পাহাড়ের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে ভুল করেননি তিনি। রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর সদ্ভাব যে এত বছরের তাঁর আন্দোলনকে নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে, তা বুঝে যান তিনি। তৃণমূলের সঙ্গ না ছাড়লে পাহাড়ে তাঁর থাকা চলবে না, এটা বুঝতে দেরি হয়নি। তাই ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের সময় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্তা যখন সমর্থন চাইলেন, তখন তিনি নির্দ্বিধায় হাত বাড়িয়ে দিলেন।বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের ভোলবদল করে ভিড়েছেন বিজেপির শিবিরে।
এবারের সমীকরণটা একটু অন্যরকম। গত লোকসভা ভোটে রাজু বিস্তার জয়ে বিমলের বড় ভূমিকা ছিল। কিন্তু এবার নিজের দাপট প্রমাণ করতে জিএনএলএফ-কে কোণঠাসা করে বিজেপির প্রতীকেই নিজের দলের যুব নেতা নমন রাইকে প্রার্থী করিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিমল জানেন পাহাড়ের দখল হারালে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা আর অবশিষ্ট থাকবে না। ২০০৮ সালে বলেছিলেন, ২০১০-এর মধ্যে গোর্খাল্যান্ড না এলে আত্মহত্যা করবেন। গোর্খাল্যান্ডও আসেনি। বিমলও আত্মহত্যা করেননি। পাহাড়ের নেতাদের হুমকি ও তা থেকে সরে আসার ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন গুরুঙও। আগে পাল্টি খেয়েছেন, ফের খাবেন না, এতটা বিশ্বাস তাঁকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা করেন না, কিন্তু তাঁর এই হুমকি, প্রতিশ্রুতি থেকে অনেক বেশি নিজের অস্তিত্ব টিঁকিয়ে রাখার লড়াই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবার রাজনীতি সন্ন্যাসের জুয়া খেলে আসলে পাহাড়বাসীর আবেগ উসকে দিতে চাইছেন তিনি।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বিমলের এই বাজি কি সত্যিই মাস্টারস্ট্রোক? নাকি গত এক দশকে হারানো জমি ফিরে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টা? একদিকে বিজেপি প্রার্থী নমন রাই পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে বিমলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কেবলই ব্যালট বক্সের ভরসায়। পাহাড়ের জনতা কি বিমলকে তাঁর 'শেষ সুযোগ' দেবেন, নাকি নতুন সমীকরণের পথে হাঁটবেন, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলাফলে।