Advertisement

West Bengal Assembly Election 2026 Updates: ভোটে অশান্তি হলে 'জিরো টলারেন্স', সল্টলেকে সিআরপিএফের বৈঠকে সিদ্ধান্ত

West Bengal Assembly Election 2026 Updates: বৈঠকে সিআইএসএফ-এর ডিজি প্রবীর রঞ্জন বাহিনীর সদস্যদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের কাজ কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা নয়, বরং গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বাহিনীর উপস্থিতি যেন প্রত্যেক নাগরিকের কাছে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার গ্যারান্টি হয়ে দাঁড়ায়।

আসন্ন নির্বাচনে শৃঙ্খলারক্ষায় 'জিরো টলারেন্স'-এর শপথ CAPF চিফেরআসন্ন নির্বাচনে শৃঙ্খলারক্ষায় 'জিরো টলারেন্স'-এর শপথ CAPF চিফের
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 19 Apr 2026,
  • अपडेटेड 11:04 PM IST

West Bengal Assembly Election 2026 Updates: আগামী ২৩ এপ্রিল বাংলার মহাযুদ্ধের প্রথম দফার ভোট। তার আগেই নবান্ন আর রাজভবনের মাঝের তপ্ত হাওয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করল কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী বা সিএপিএফ-এর শীর্ষ কর্তাদের বৈঠক। সল্টলেকের সিআরপিএফ-এর থার্ড সিগন্যাল সেন্টারে আয়োজিত এই রণকৌশল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফ, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র ডিরেক্টর জেনারেলরা। লক্ষ্য একটাই, ১৫২টি আসনের প্রথম দফার নির্বাচনে বুথ দখল বা ভোটারদের ভয় দেখানো রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা।

রাজ্যের বিশেষ পুলিশ কো-অর্ডিনেটর শলভ মাথুরের উপস্থিতিতে বাহিনীর প্রধানরা তৈরি করেছেন একটি ‘ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি গ্রিড’। অর্থাৎ, এবার আর বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং কেন্দ্র ও রাজ্যের সমস্ত গোয়েন্দা তথ্য এক ছাতার তলায় এনে কাজ করবে ‘ওয়ান ফোর্স’। এর ফলে সিএপিএফ, রাজ্য পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনের পুলিশ উপদেষ্টারা রিয়েল-টাইম ডেটা বা তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবেন। বুথ স্তরে কোনও অশান্তি দেখা দিলে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছে যাবে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি।

বৈঠকে সিআইএসএফ-এর ডিজি প্রবীর রঞ্জন বাহিনীর সদস্যদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের কাজ কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা নয়, বরং গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বাহিনীর উপস্থিতি যেন প্রত্যেক নাগরিকের কাছে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার গ্যারান্টি হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর কথায়, "আজ আমরা আলাদা কোনও ইউনিট নই, আমরা সবাই মিলে একটি অখণ্ড নির্বাচনী শক্তি।" ভোটের দিন অশান্তি রুখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথেও নজরদারি চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই অতি-সক্রিয়তা এবং শীর্ষ কর্তাদের নজিরবিহীন বৈঠক নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে। সমাজমাধ্যমে কড়া তোপ দেগেছেন তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের অন্য কোনও রাজ্যে নির্বাচনের আগে এভাবে সমস্ত বাহিনীর প্রধানদের একসঙ্গে বৈঠক করতে শেষ কবে দেখা গিয়েছে? তৃণমূলের ইঙ্গিত স্পষ্ট, কেন্দ্রীয় এজেন্সির মতো বাহিনীকেও রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করা হতে পারে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই কমিশন নিশ্চিত করতে চাইছে ২০২৬-এর ভোট যেন বাংলার ইতিহাসে স্বচ্ছতম নির্বাচন হয়।

Advertisement

বাহিনী সূত্রে খবর, এবার আর শুধু জওয়ানেরা নন, সরাসরি ময়দানে থেকে কাজ তদারকি করবেন পদস্থ আধিকারিকেরা। তাঁদের জন্য জারি হয়েছে ‘লিড ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’ নীতি। কমিশনের ডিউটি হ্যান্ডবুক অক্ষরে অক্ষরে পালন করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাহিনীর প্রতিটি স্তরকে। হাই-রিস্ক পকেট বা অতি-স্পর্শকাতর এলাকায় ক্রমাগত চলবে রুট মার্চ এবং তল্লাশি অভিযান। সব মিলিয়ে, ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস জোগাতে এবং রাজনৈতিক দুষ্কৃতীদের দমাতে জান লড়িয়ে দিচ্ছে দিল্লির কর্তারা।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement