
Falta Election Result West Bengal: ডায়মন্ড হারবারের খাসতালুকে এবার ঘাসফুল উপড়ে উড়ল গেরুয়া আবির। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর, রবিবার ফালতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফলে ফের একবার মুখ পুড়ল তৃণমূল কংগ্রেসের। ঘাসফুল শিবিরের ‘দুর্গ’ বলে পরিচিত ফালতায় রেকর্ড ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিপুল জয় ছিনিয়ে নিলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা। অন্যদিকে, ভোটের ময়দান থেকে নাটকীয়ভাবে রণেভঙ্গ দেওয়া তৃণমূলের ‘বাহুবলী’ নেতা জাহাঙ্গীর খান চার নম্বরে শেষ করে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেলেন। ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণায় ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে ইতিমধ্যেই ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছিল বিজেপি। রবিবারের এই বাম্পার জয়ের পর ফালতা আসনটি পকেটে পুরে এ রাজ্যে নিজেদের আসন সংখ্যা ২০৮-এ নিয়ে গেল পদ্ম শিবির।
ভোট গণনার শুরু থেকেই কার্যত একতরফা খেলা দেখিয়েছেন বিজেপির দেবাংশু। মোট ২২ রাউন্ড গণনা শেষে ১,৪৯,৬৬৬টি ভোট পেয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিআই(এম)-এর শম্ভুনাথ কুর্মি পেয়েছেন মাত্র ৪০,৬৪৫টি ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেসের আবদুর রাজ্জাক মোল্লা পেয়েছেন ১০,০৮৪টি ভোট। আর নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে অহংকার করা তৃণমূলের জাহাঙ্গীর খান ভোট বয়কট করেও ইভিএমের কল্যাণে পেয়েছেন মাত্র ৭,৭৮৩টি ভোট। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের স্ক্রুটিনি এবং নাম প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর জাহাঙ্গীর পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ফলে ইভিএমে তাঁর নাম ও তৃণমূলের প্রতীক থেকে গিয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না, জামানতটুকুও বাঁচাতে পারলেন না তিনি।
২০১১ সাল থেকে ফালতা কেন্দ্রটি ছিল তৃণমূলের অলঙ্ঘনীয় গড়। কিন্তু গত ৪ মে-র ভোটে এখানে ব্যাপক কারচুপি, বুথ দখল এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তোলে বিজেপি। একাধিক বুথে ইভিএম জালিয়াতি ও নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অকাট্য প্রমাণ মেলায় শেষ পর্যন্ত গোটা ভোট প্রক্রিয়াই বাতিল করে নতুন করে ভোট গ্রহণের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। মনে করা হচ্ছিল, মূল নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর ফালতা পুনর্নির্বাচনে নিজেদের মাটি ফিরে পেতে জান লড়িয়ে দেবে তৃণমূল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো ছবি।
তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের সমর্থনে প্রচারে নামেননি দলের কোনও শীর্ষ নেতাই। স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ফালতায় একটিও সভা করতে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মহল সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছে কারণ, ফালতা বিধানসভা কেন্দ্রটি খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। শীর্ষ নেতৃত্বের এই ‘নিস্পৃহতা’ তৃণমূল কর্মীদের মনোবল তলানিতে নামিয়ে দিয়েছিল।
এর আগে উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা দুঁদে আইপিএস অফিসার তথা নির্বাচনী পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মাকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন এই জাহাঙ্গীর খান। এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় বাবুকে সবাই ‘সিংহম’ বলে ডাকেন। ভোটের আগে জাহাঙ্গীর বাবুর বাড়িতে গিয়ে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ভোটের দিন সাধারণ মানুষকে চমকালে ফল ভালো হবে না। সেই ঘটনার পর অল্লু অর্জুনের ছবির সংলাপ আউড়ে জাহাঙ্গীর দম্ভের সঙ্গে বলেছিলেন, “উনি যদি সিংহম হন, তবে আমি পুষ্পা!” রবিবারের ফলাফলের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কটাক্ষ, ‘সিংহম’-এর খাঁচায় বন্দি হয়ে ‘পুষ্পা’ যে এভাবে ঝুঁকে পড়বেন, তা হয়তো খোদ জাহাঙ্গীর বাবুও কল্পনা করতে পারেননি।