নয়া তিন কৃষি আইনের বিরোধিতায় রাজধানী সীমানায় এখনও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে সেই আন্দোলন একশো দিন পার করেছে। আগেই সেই আন্দোলনে নিজের সমর্থন জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বঙ্গ ভোটের মধ্যেই সেই কৃষক আন্দোলনের নেতা রাকেশ টিকায়েত রাজ্যে পা রাখতে চলেছেন। আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যে আসছেন ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন (BKU) মুখপাত্র এবং কৃষক আন্দোলনের নেতা রাকেশ টিকায়েত। কলকাতা ছাড়াও টিকাইতের সফরসূচিতে রয়েছে একুশের ভোটে বাংলার সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। টিকাইত নিজেই জানিয়েছেন ১৩ মার্চ নন্দীগ্রামে মহাপঞ্চায়েত বসাবেন তিনি। আর সেখানেই বাংলার কৃষকদের কাছে জানতে চাইবেন তাঁরা এমএসপির সুবিধা পাচ্ছেন কিনা। বাংলার ভোটের হাওয়ায় টিকাইতের এই আগমন স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তার ভাজ ফেলছে গেরুয়া শিবিরের কপালে।
রাজ্যে বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে বারবার রাজধানীতে কৃষক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে টিকায়েতের বঙ্গে আগমন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষক আন্দোলনের নেতা রাকেশ টিকায়েত জানিয়েছেন, কলকাতা ও নন্দীগ্রামের কৃষকদের কাছে তিনি জানতে চাইবেন তাঁরা এমএসপি বা মিনিমাম সেলিং প্রাইস পাচ্ছেন কিনা? বা এর লাভ কখনও তাঁরা পেয়েছেন কিনা? টিকাইতের অভিযোগ দেশের কৃষকরা বিজেপির কৃষি নীতির ফলে জর্জরিত। এই আবহে বাংলার কৃষকরা যাতে সকলে মিলে বিজেপিকে পরাস্ত করে সেই আহ্বান তিনি জানাবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। তবে কোনও দলের সমর্থনে তিনি আসছেন না সেকথাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন টিকায়েত। তিনি বলেছেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভোট চাইতে যাচ্ছি না। সেখানে কৃষকদের সঙ্গে দেখা করব। তাঁদের উদ্বেগগুলি নিয়ে কথা বলব।
মমতার সঙ্গে দেখা করবেন টিকাইত?
তিনি কি বিজেপির বিরুদ্ধে কোনো প্রচার করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে টিকায়েত বলেন, অবশ্যই, “আমি সেখানে তাদের (বিজেপির) জয় নিশ্চিত করতে যাচ্ছি না। আমি কৃষকদের সচেতন করার জন্যই সেখানে যাচ্ছি”। কৃষক আন্দোলনকে বারবার সমর্থ জানিয়েছেন মমতা। এই আবহে রাজ্যে এসে তিনি কি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। এই প্রশ্নের জবাবে টিকায়েত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এমন কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। কৃষি আইন নিয়ে কথা বলতেই তিনি কেবল রাজ্যে আসছেন। এর আগে, ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের (রাজেওয়াল) সভাপতি বলবীর সিং রাজেওয়াল বৃহস্পতিবার বলেন, কৃষকদের প্রতিবাদের ১০৫ দিন কেটে গেছে। আমরা বেশ কয়েকটি দল গঠন করে যে ৫ টি রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে সেখানে যাবে। জনগণ বিজেপিকে ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিতে পারে, এমন আবেদন জানানো হবে।