
কালনার শিরিষতলার মীরহাট কোলোর মাঠের মঞ্চ থেকেই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক তোপ দাগলেন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে। নেত্রীর স্পষ্ট অভিযোগ, ৫৪৩টি আসনেই মোদী হেরে যাবেন জেনেই ৮৫০ সিট করার পরিকল্পনা ছিল বিজেপির, যার আড়ালে ছিল দেশ ও রাজ্য ভাঙার এক ভয়ঙ্কর অভিসন্ধি। কিন্তু জোটবদ্ধ লড়াইয়ে সেই ছক ভেস্তে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সংখ্যাতত্ত্বের হিসেব কষে মমতা মনে করিয়ে দেন, জোটের ৮ জন ভোটার সেদিন হাজির থাকতে পারেননি, শিবসেনা সহ আরও অনেক দলই যেতে পারেনি। অথচ এখনও ২০-২৫টি ভোট বিরোধী শিবিরের হাতেই রয়েছে। সেই ভোটগুলি যোগ হলে আর বিজেপির দিক থেকে সমর্থন সরলে যে কোনও দিন এই কেন্দ্রীয় সরকার পড়ে যাবে বলে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
তৃণমূলনেত্রী জানান, কোনও শক্তিই তাঁকে হারাতে পারবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করে ৩২ লক্ষ লোকের নাম ভোটার তালিকায় তুলে আনার কৃতিত্ব দাবি করেন। তাঁর সরাসরি আক্রমণ, শুধুমাত্র ভোটের স্বার্থে মানুষের নাম কাটা হয়েছে এবং এখনও গোপনে ঘরে বসে ডিলিমিটেশনের কাজ চলছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আবেগপ্রবণ ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বিদ্রুপের সুরে বলেন, কালকে প্রধানমন্ত্রী কেঁদে ভাসিয়েছেন কারণ তিনি হেরে গিয়েছেন এবং মুখ দেখাতে পারছেন না। দূরদর্শনের মতো সরকারি সংস্থাকে রাজনৈতিক অপপ্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি তোপ দাগেন।
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাবিকেও ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০২৩ সালে বিল পাশ হওয়ার পর এবং ৪৫০-এর উপর ভোট পাওয়া সত্ত্বেও কেন তা এখনও নোটিফাই করা হয়নি? প্রধানমন্ত্রীর এই ‘মহিলা দরদ’কে লোকদেখানো আখ্যা দিয়ে তাঁর সপাট উক্তি, ‘সামনে মহিলা পিছনে ময়লা’। এটাকে তিনি নিছকই এক রাজনৈতিক চালাকি বলে মনে করেন। দিল্লির বর্তমান শাসনকে ‘মাইনরিটি গভর্নমেন্ট’ বা সংখ্যালঘু সরকার হিসেবে দেগে দিয়ে নেত্রী বলেন, দিল্লি, আসাম, মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থান থেকে লোক এসে বাংলায় চমকাচ্ছে, কিন্তু দিল্লি যেদিন ওল্টাবে সেদিন তিনি অত্যাচারের বদলা দেবেন মিষ্টি দিয়ে, নাড়ু খাওয়াবেন সবাইকে।
এনআরসি আর ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করে মমতা বলেন, ডিলিমিটেশনের আসল চালাকিটা হলো এর পরেই এনআরসি আনা। আসামের স্মৃতি উস্কে দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, সেখানে ১৯ লক্ষ লোকের নাম বাদ গিয়েছিল, যার মধ্যে ১২ লক্ষ হিন্দু আর ৭ লক্ষ মুসলমান। বাংলা আসামের চেয়ে অনেক বড় রাজ্য, তাই এখানে কোনও ভাবেই এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেবেন না বলে তিনি কড়া হুঙ্কার ছাড়েন। ডিলিমিটেশন যে আদতে মহিলা বিল নয়, বরং এক গভীর চক্রান্ত, তা উল্লেখ করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই সব ছলচাতুরি বাংলার মাটিতে চলবে না।