Advertisement

সনিয়া-মায়া-মুফতি-জয়া নেই! জাতীয় রাজনীতিতে BJP-র বিরুদ্ধে একা মহিলা মমতাই?

তৃণমূলনেত্রীর জন্মদিনের দিনেই দল ও মন্ত্রিত্ব দুই ছাড়ার ঘোষণা করলেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা। লক্ষ্মী দাবি করেছেন খেলাধুলার জন্যেই তিনি রাজনীতি থেকে সরে যেতে চান। মুখে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, খেলাধুলা ছাড়া লক্ষ্মীর ইস্তফাতে ভিন্ন কোনও কারণ নেই। কিন্তু রাজনৈতি মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে লক্ষ্মীরতন শুক্লার বিজেপি শিবিরে যাওয়া নিয়ে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট যতই এগিয়ে আসছে ততই যেন দলের ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠছে তৃণমূলনেত্রীর কাছে। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক থেকে সাধারণ দলীয় কর্মী, প্রতিদিনই তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগদানের খবর সংবাদমাধ্যমের দৌলতে সামনে আসছে। গেরুয়া শিবির দাবি করে চলেছে, ভোট যত এগোবে ততই এই দলবদল নাকি আরও বাড়বে। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যেতে পা বাড়িয়ে রয়েছেন আরও একাধিক হেভিওয়েট। যে বাগান তিনি তিলে তিলে নিজে গড়ে তুলেছিলেন তাতেই আজ ভাঙনের রেখা স্পষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করে এতটা উঠে এসেছেন, বলতে দ্বিধা নেই বাংলায় বাম রাজত্বের অবসান একা তাঁর কৃতীত্ব, সেই অগ্নিকন্যার কপালেই আজ নিজের সাম্রাজ্য ধরে রাখার ব্যাপারে চিন্তার ভাজ ক্রমে দৃঢ় হচ্ছে। পারবেন তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির রণনীতি ভেস্তে দিয়ে বাংলার বুকে আরও একবার ঘাসফুল ফোটাতে?

Mamata Banerjee
সুমনা সরকার
  • কলকাতা,
  • 05 Jan 2021,
  • अपडेटेड 8:07 PM IST
  • নেত্রীর জন্মদিনেই দল ছাড়লেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা
  • তিলে তিলে নিজের গড়ে ওঠা বাগানে ভাঙন দেখছেন মমতা
  • গেরুয়া ঝড় থেকে ২০২১-এ নিজের সাম্রাজ্য বাঁচতে পারবেন অগ্নিকন্যা?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! ভারতীয় রাজনীতির এমন একটি নাম যাকে ছাড়া এদেশের ইতিহাস কোনও ভাবেই লেখা সম্ভব নয়। বাংলার অগ্নিকন্যা থেকে দিল্লির রাজনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে ওঠা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান কিন্তু অন্যান্য রাজনীতিবিদদের থেকে এনেকটাই আলাদা। কোনও রাজনৈতিক পরিমণ্ডল নয়, সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা। দেখতে দেখতে মঙ্গলবার ছেষট্টি বছরে পা দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাকে উঠতে-বসতে আক্রমণ শানান রাজ্য বিজেপির সভাপতি, সেই দিলীপ ঘোষণ তৃণমূলনেত্রীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানালেন। বললেন,  "আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। উনি মুখ্যমন্ত্রী থাকুন বা এক্স-মুখ্যমন্ত্রী থাকুন, যেন ভালো থাকুন।" দিলীপবাবুর জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যেও যেন শ্লেষ রয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল আর ক্ষমতায় ফিরবে না, মমতারও মুখ্যমন্ত্রীত্বের হ্যাটট্রিক করা হবে না, এই কথাটাই যেন জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বলতে চেয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। অস্বীকার করার উপায় নেয়, আগামী বিধানসভা নির্বাচন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বড় লড়াই। কীভাবে তিনি নিজের গড় ধরে রাখেন সেই দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল।

১৩ জানুয়ারি থেকে টিকাকরণ! জানুন কীভাবে পৌঁছবে করোনা ভ্যাকসিন আপনার কাছে

তৃণমূলনেত্রীর জন্মদিনের দিনেই  দল ও মন্ত্রিত্ব দুই ছাড়ার ঘোষণা করলেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা। লক্ষ্মী দাবি করেছেন খেলাধুলার জন্যেই তিনি রাজনীতি থেকে সরে যেতে চান। মুখে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, খেলাধুলা ছাড়া লক্ষ্মীর ইস্তফাতে ভিন্ন কোনও কারণ নেই। কিন্তু রাজনৈতি মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে লক্ষ্মীরতন শুক্লার বিজেপি শিবিরে যাওয়া নিয়ে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট যতই এগিয়ে আসছে ততই যেন দলের ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠছে তৃণমূলনেত্রীর কাছে। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক থেকে সাধারণ দলীয় কর্মী, প্রতিদিনই তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগদানের খবর সংবাদমাধ্যমের দৌলতে সামনে আসছে। গেরুয়া শিবির দাবি করে চলেছে, ভোট যত এগোবে ততই এই দলবদল নাকি আরও বাড়বে। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যেতে পা বাড়িয়ে রয়েছেন আরও একাধিক হেভিওয়েট। যে বাগান  তিনি তিলে তিলে নিজে গড়ে তুলেছিলেন তাতেই আজ ভাঙনের রেখা স্পষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করে এতটা উঠে এসেছেন, বলতে দ্বিধা নেই বাংলায় বাম রাজত্বের অবসান একা তাঁর কৃতীত্ব, সেই অগ্নিকন্যার কপালেই আজ নিজের সাম্রাজ্য ধরে রাখার ব্যাপারে চিন্তার ভাজ ক্রমে দৃঢ় হচ্ছে। পারবেন তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির রণনীতি ভেস্তে দিয়ে বাংলার বুকে আরও একবার ঘাসফুল ফোটাতে? 

Advertisement
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৫৫ সালের ৫ জানুয়ারি কলকাতার হাজরা অঞ্চলে এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন মমতা। সংগ্রামটা যেন তখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। রাজনীতিতে হাতেখড়ি কলেজ জীবন থেকেই। এই সময়েই যোগদান কংগ্রেসে।  ১৯৮৪ সাল থেকে ভোটে লড়ছেন মমতা। প্রথমবার ভোটে লড়েই ২৯ বছরের যুবতী মমতা হারিয়ে দিয়েছিলেন সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। মোট ভোটের ৪৯.৮ শতাংশ গেছিল তাঁর ঝুলিতে। এই মেয়ে যে অনেকদূর যাবে তা তখনি বুঝে গিয়েছিলেন রাজীব গান্ধী। তারপর বহুবার লোকসভার সাংসদ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে হারের স্বাদও জীবনে একবার পেয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়ে সেবছর সিপিএমের মালিনী ভট্টাচার্যের কাছে হেরে যান তিনি। বলা হ.  কেন্দ্রের রাজীব গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে বোফর্স কেলেঙ্কারির রেশ পড়েছিল ভোটবাক্সে। তারপর আর কোনও দিন পরাজয়ের মুখ দেখেননি মমতা। ১৯৯৮ সালে রেকর্ড ভোটে জয় পেয়েছিলেন। ১৯৯১, ১৯৯৬, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০৪, ২০০৯ প্রতিবারই জনতার আশীর্বাদ পেয়েছেন তিনি। এই যাত্রাপথে রেলের মত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলেছেন মমতা। 

হিমাচল থেকে কেরল Bird Flu নিয়ে জারি Alert, হরিয়ানায় মৃত্যু ১ লক্ষ মুরগির

জীবনের গোড়ায় মমতা ছিলেন কট্টর কংগ্রেস সমর্থক। কিন্তু সেই তিনিই ১৯৯৭ সালে পুরনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে তৈরি করেন নতুন এক দল। অনেকেই মমতার কংগ্রেস ছাড়াকে সেই সময় বলেছিলেন রাজনৈতিক আত্মহত্যা। কিন্তু তিনি বরাবরই ধরবাঁধার বাইরে, স্রোতের বিপরীতে চলা এক নেত্রী। নিজের জীবনের দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটানো বলতেই তবে তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় মাইলফলক। এরপর গত ১০  বছর ধরে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে তিনি।  ২০১১ সালের ১৩ মে বাংলা জয় করে মমতা বলেছিলেন, , 'এ জয় আমার নয়, এই জয় মা-মাটি-মানুষের জয়।' ২০১৬ সালে আরও বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরেন মমতা।  সেই নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১১টি আসনে জিতে বিরোধীদের প্রায় সাইনবোর্ডে পরিণত করে দ্বিতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  এরপর ২০১৯ সালে বাংলাকে সামনে রেখে দিল্লির মসনদ দখলের ডাক দিয়েছিলেন মমতা। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপি বিরোধী জোটের অন্যতম প্রধান মুখই ছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেবার সারা বাংলা তো বটেই ভিনরাজ্যেও প্রচারে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৯ সাল সব হিসেব-নিকেষ গণ্ডোগল করে দেয়। দিল্লি জয় তো দূর- বাংলাতেই একের পর এক লোকসভা আসন হারাতে হয় তৃণমূল কংগ্রেসকে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

 

লোকসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে এই মুহূর্তে রাজ্য বিধানসভা ওয়াড়ি আসন বিন্যাসে তৃণমূল এগিয়ে  ১৬৪টি বিধানসভা আসনে, অন্য দিকে বিজেপি এগিয়ে আছে ১২১টি আসনে। মুখ্যমন্ত্রীর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরেও কোনও রকমে নামমাত্র ভোটে নিজের লিড ধরে রাখতে পেরেছে তৃণমূল। এদিকে ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে জিতেই প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে মোদী-শাহ জুটি ঘোষণা করেছিলেন তাঁদের পরবর্তী লক্ষ্য বাংলা জয়। বিহার জয় সম্পন্ন হতেই সেউ লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েছে গেরুয়া শিবির। তৈরি হচ্ছে রণনীতি। এরাজ্যে আসছেন একের পর একে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। প্রতিমাসে জনসংযোগ বাড়াতে হাজির হচ্ছেন জেপি নাড্ডা- অমিত শাহরা স্বয়ং। শোনা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও নামবেন বাংলার ভোট ময়দানে। তাই প্রশ্ন বিজেপির এই সম্মিলিত আক্রমণের প্রতিরোধ করতে পারবেন তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? ভারতে লড়াকু মহিলা নেত্রী হিসাবে এখন সামনে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তামিলনাড়ুর আগ্নিকন্যা এআইএডিএমকে নেত্রী জয়ললিতা প্রয়াত। উত্তরপ্রদেশে বহুজন সমাজপার্টির মায়াবতীর রাজত্বও শেষ। প্রায় সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে কংগ্রেস। কার্যনির্বাহী সভানেত্রী হিসাবে দলের কোন্দল সামালদিতে নাজেহাল অসুস্থ সনিয়া গান্ধী। কাশ্মীরে বিজেপি বিরোধিতা করে ক্ষমতা হারিয়েছেন পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিও। এই আবহে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমানে  ভারতীয় রাজনীতির একমাত্র লড়াকু নেত্রী হিসাবে জ্বলজ্বল করছেন। সারা জীবন বহু লড়াই লড়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহুবার নিজেই বলেছেনন, নিজের সারা শরীরে বামআমলের  অত্যাচারের নির্মম সাক্ষী বহন করার কথা। সেই লড়াই ছিল ক্ষমতার বিপরীতে। এবার ক্ষমতায় থেকে সাম্রাজ্য ধরে রাধার এক নতুন অগ্নিপরীক্ষায় তৃণমূলনেত্রী।

Advertisement

 


 

Read more!
Advertisement

RECOMMENDED

Advertisement