
Nisith Pramanik Election Chaos Mathabhanga: নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা আর কমিশনের কড়া নজরদারি, সব দাবি যেন নিমেষেই ফিকে হয়ে গেল মাথাভাঙ্গায়। ইভিএমের ভেতর খোদ প্রার্থীর নাম ঢাকা কালো সেলোটেপে! বৃহস্পতিবার সাতসকালে মাথাভাঙ্গা বিধানসভার ২৬১ নম্বর বুথে এই ‘রহস্যময়’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। একদিকে ইভিএম বিভ্রাট, অন্যদিকে তৃণমূল-বিজেপি প্রার্থীর মুখোমুখি সংঘাত। সব মিলিয়ে কোচবিহারের ভোটপর্বে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে।
বৃহস্পতিবার সকালে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছবিরন্নেছা নিম্ন বুনিয়াদি বালিকা বিদ্যালয়ের বুথে ভোট দিতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ হয় সাধারণ ভোটারদের। অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের নামের পাশের অংশটি সুকৌশলে কালো সেলোটেপ দিয়ে লেপে দেওয়া হয়েছে। খবর চাউর হতেই বুথের বাইরে জমায়েত শুরু করেন বিজেপি সমর্থকরা। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এটি নিছক যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তাঁদের অভিযোগ, পোলিং এজেন্টকে বারবার জানালেও প্রথমে কর্ণপাত করা হয়নি। শেষমেশ পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে কমিশনে অভিযোগ জানান বিজেপি নেতৃত্ব। ওই বুথে নতুন করে ভোটগ্রহণের (রি-পোলিং) দাবিও তোলা হয়েছে।
পাল্টা সুর চড়িয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মনের এজেন্টের দাবি, বিষয়টি অতি সামান্য। সমস্ত দলের এজেন্টদের উপস্থিতিতেই মিউচুয়াল করে ভোট ফের শুরু হয়েছে। যদিও ইভিএমের মতো সুরক্ষিত যন্ত্রে বাইরে থেকে কীভাবে সেলোটেপ ঢুকল, সেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই গেল।
এদিকে ঝামেলার এখানেই শেষ নয়। মাথাভাঙ্গার বড় শৌলমারী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। কোচবিহার চা বাগানের ৪৭ ও ৪৮ নম্বর বুথে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসেন দুই হেভিওয়েট প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক ও সাবলু বর্মন। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটারদের মধ্যে টাকা বিলি করছে বিজেপি। অস্বীকার করে পাল্টা তোপ দাগেন নিশীথও। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় ‘জয় বাংলা’ আর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান যুদ্ধ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতে হয় উত্তেজিত সমর্থকদের। আপাতত পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও এলাকায় টহল দিচ্ছে নির্বাচন কমিশনের পরিদর্শন দল।