
Rajbanshi-Adivasi Vote Factor Bengal Election: রাজনীতির ময়দানে চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু হয় না, এই আপ্তবাক্যটি ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ফের অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দিল উত্তরবঙ্গ। ২০২১-এ যে গেরুয়া আধিপত্যের সূচনা হয়েছিল, ২০২৬-এ তা যেন সুনামিতে পরিণত হল। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার থেকে জলপাইগুড়ি, উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ জনপদে তৃণমূলের সমস্ত অঙ্ক ওলটপালট করে দিয়েছে রাজবংশী ও আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক। আর এই পালাবদলের নেপথ্যে যে নামটি সবথেকে বেশি চর্চায়, তিনি গ্রেটার কোচবিহার পিপলস পার্টির দাপুটে নেতা বংশীবদন বর্মন।
ভোলবদল ও মোহভঙ্গ
এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজনৈতিক পুনর্বাসন পেয়েছিলেন বংশীবদন। রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমি থেকে উন্নয়ন পর্ষদ, সব জায়গাতেই ছিল তাঁর দাপট। কিন্তু ভোটের মুখে সেই সখ্য কাটিয়ে তিনি বেছে নিলেন গেরুয়া শিবিরকে। কেন এই ভোলবদল? বংশীবদনের সাফ কথা, "তৃণমূল দিয়ে আর লাভ হবে না।" কোচবিহারের পৃথক অস্তিত্ব এবং রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতির মতো মৌলিক দাবিগুলো যখন নবান্ন 'কেন্দ্রের এক্তিয়ারভুক্ত' বলে এড়িয়ে গেল, তখনই মোহভঙ্গ হয় তাঁর। বিজেপির দেওয়া মাত্র ২টি আসনে লড়তে রাজি হয়েও তিনি কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, ‘উন্নয়ন’ নয়, তাঁর লড়াই এখন ‘অধিকার’-এর।
ভোটের পাটিগণিত ও জাতিগত সমীকরণ
কোচবিহারের ৩৩ শতাংশ রাজবংশী ভোট এবং ফাঁসিদেওয়া, নকশালবাড়ি ও আলিপুরদুয়ারের চা-বলয়ের আদিবাসী ভোট এবার এককাট্টা হয়ে গিয়েছে পদ্ম শিবিরের দিকে। তৃণমূল জমানায় রাজবংশী ব্যাটালিয়ন বা পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে যে আবেগকে ধরে রাখার চেষ্টা হয়েছিল, অধিকারের প্রশ্নে তা এবার ফিকে হয়ে গিয়েছে। বংশীবদনের দিল্লি যাত্রা এবং কেপিপি সুপ্রিমো অমিত রায়ের ‘তলে তলে’ সমঝোতার ইঙ্গিত উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে ৪৫টিতে বিজেপির জয় নিশ্চিত করার পথ প্রশস্ত করেছে।
বঞ্চনার ইতিহাস ও আগামীর অঙ্ক
১৯৪৯-এর ভারতভুক্তি চুক্তির সেই পুরনো আবেগ এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির রাজ্যের মর্যাদা পাওয়ার দাবিকে ফের উসকে দিয়েছে গ্রেটার শিবির। বিজেপি যেখানে বঙ্গভঙ্গের বিরোধী, সেখানে দাঁড়িয়েও রাজবংশী নেতারা কেন পদ্মে ভরসা রাখলেন? রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, ‘যে নুন দেবে, তার গুণ গাও’, এই তত্ত্বে ভর করেই দিল্লিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন বংশীবদনরা। ফলে রাজবংশী সমাজের আত্মসম্মান রক্ষার লড়াইয়ে আপাতত ব্যাকফুটে ঘাসফুল। উত্তরবঙ্গ ফের একবার প্রমাণ করল, এখানকার চাবিকাঠি এখনও পাহাড় আর সমতলের ভূমিপুত্রদের হাতেই। যদিও বংশীবদনবাবু জানিয়েছেন, আপাতত তাঁরা বিজেপিতে ভরসা রেখেছেন। চুক্তি নিয়ে তাঁদের আশা বিজেপি আলোচনা করবে।