
রাহুল সিনহা। বাংলা থেকে বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমাও দিয়েছেন। ৫ সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা পাঠিয়েছিল রাজ্য নেতৃত্ব। তার মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে রাহুলকে। বিজেপি সূত্রের খবর, তালিকায় এক নেত্রী চর্চায় ছিলেন। তবে রাহুলের মনোনয়ন অনুঘটক হয়েছেন খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। একটা সময় এই রাহুলই ছিলেন শমীকের নেতা। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, রাহুলকে গুরুদক্ষিণা দিলেন শমীক!
৪০ বছরের পর উপর বিজেপি করছেন রাহুল সিনহা। আজকালকার দলবদলের যুগে যা ব্যতিক্রমই বলা যায়! একটা সময় রাজ্যে বিজেপি বলতে রাহুল, শমীক, তথাগত, তপন সিকদারের নামই আসত। যদিও রাহুল কোনওবারই নির্বাচন জিততে পারেননি। বারবার কেন্দ্র বদল করেও শিকে ছেড়েনি। সেই ১৯৯৮ সালে রায়গঞ্জ লোকসভা আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। শেষবার ২০২১ সালে হাবড়া বিধানসভা আসনেও হারেন। এর মাঝে ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটেও হেরেছেন। মাঝে ২০১৬ সালে জোড়াসাঁকো বিধানসভা আসনেও জয় আসেনি। মোট ৯বার। সম্ভবত এত সুযোগ বিজেপিতে অন্য কোনও নেতা পাননি! সেই রাহুলকেই রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে পদ্মশিবির। আর এর পিছনে অনুঘটক নাকি শমীক ভট্টাচার্য!
নানা সমীকরণের পর রাজ্যসভার জন্য ৫ জনের প্রার্থিতালিকা পাঠিয়েছিল রাজ্য বিজেপি। এর মধ্যে রাহুল সিনহার সঙ্গেই ছিলেন এক প্রভাবশালী নেত্রীও। তাঁর সঙ্গে দিল্লির নেতাদের যোগাযোগও বেশ ভালোই। অনেকেই মনে করেছিলেন, ওই নেত্রীই হবেন রাজ্যসভার প্রার্থী। কিন্তু শমীকের সওয়ালের রাহুলের নামে সিলমোহর দেয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, এমনটাই বিজেপি সূত্রের দাবি। রাহুল সিনহা দু'দফায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি হয়েছেন। তার আগে যুব সভাপতিও ছিলেন। সেই সময় থেকেই শমীকের সঙ্গে তাঁর আলাপ। রাহুল রাজ্য সভাপতি। শমীক রাজ্যের ছিলেন সাধারণ সম্পাদক।
প্রণিধানযোগ্য, শমীকের জমানাতেই বিজেপির আদি নেতারা আবারও সক্রিয় হচ্ছেন। বড় উদাহরণ- দিলীপ ঘোষ। আদি কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকও সেরেছেন নতুন সভাপতি। একটি সংবাদ মাধ্যমে শমীক বলেন,'আমাদের বয়সের ব্যবধান বেশি নয়। প্রায় একই সময় থেকে রাজনীতি করছি। টিউবওয়েলের জল খেয়ে শুয়েছি। ট্রেনে বিছানা পেতে দিতেন রাহুল সিনহা। এটা ভুলি কীভাবে? আমাদের আন্তরিক যোগাযোগ'।