
Suvendu Adhikari vs Mamata Banerjee 2026: ভবানীপুরে মেগা লড়াই। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতবার তৃণমূল জিতলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ভোটে শুভেন্দুর কাছেই নন্দীগ্রামে হেরে গিয়েছিলেন। পরে উপ-নির্বাচনে জিতে তিনি মুখ্য়মন্ত্রী হন। এবার অবশ্য মমতা নন্দীগ্রামে দাঁড়াননি। কিন্তু শুভেন্দু মমতার কেন্দ্র ভবানীপুরে দাঁড়িয়েছেন। সেই সঙ্গে ছুঁড়ে দিয়েছেন খোলা চ্যালেঞ্জ।
তিনি খোলা চ্যালেঞ্জ করে বলেন, "আমি শুভেন্দু অধিকারী, লক্ষণ শেঠের রাজত্ব শেষ করেছি, এবার মমতার রাজত্ব শেষ করব।" মমতার উদ্দেশ্য়ে পরিবারবাদের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, "রাজ্যের যত খেলার সংগঠন রয়েছে, তাতে মমতার পরিবারের লোকেরা দখল করে বসে আছে। ৩৮টা প্লটের মালিক মমতা। ৬ কোটি টাকায় সৌজন্য বানিয়েছেন। পুলিশের দাপাদাপিতে এলাকায় পুলিশ প্রবেশ করতে পারে না। কুমারটুলিতে যাতায়াত করা যায় না। দ্বিতল বাড়ির অনুমতি মেলে না। মমতা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছেন।" তিনি সভা থেকেই মমতা বিদায়ের ডাক দেন।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের মূল তির ছিল রাজ্যের সাম্প্রতিক একাধিক নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকে। কালনার জনসভা থেকে তিনি সোজাসুজি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আইনত এই সরকারকে পর্যুদস্ত না করা পর্যন্ত তিনি বিশ্রামে যাবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাইনরিটি গভর্নমেন্ট’ তত্ত্বকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, আসলে জনসমর্থন হারিয়ে এখন অবান্তর কথা বলছে তৃণমূল। প্রধানমন্ত্রীর গতকালের আবেগপ্রবণ ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, নরেন্দ্র মোদী দেশকে ভালোবেসে কাজ করেন বলেই তাঁর অন্তরের আবেগ মানুষের সামনে আসে, কিন্তু বাংলার শাসকদল কেবল কান্নার নাটক করে মানুষকে বোকা বানাতে চাইছে।
এদিন শুভেন্দু আরও অভিযোগ করেন, ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের ভয় দেখিয়ে আসলে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানার শেষ চেষ্টা করছে তৃণমূল। তাঁর সাফ কথা, ‘ভোট এলেই এরা এনআরসি-র জুজু দেখায়, কিন্তু বাংলার মানুষ এখন শিক্ষিত, তারা আর এই বিভ্রান্তিকর ফাঁদে পা দেবে না।’ দূরদর্শনের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করার অভিযোগকে নস্যাৎ করে দিয়ে শুভেন্দু পাল্টা প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের নিজস্ব পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। তাঁর দাবি, রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনকে গোলামে পরিণত করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।