Advertisement

TMC Inner Clash: কেউ ক্ষুব্ধ, কেউ ঘরছাড়া, কারও রাজনীতি ত্যাগের ঘোষণা; উত্তরবঙ্গে দল রাখাই গেরো TMC-র

TMC Inner Clash: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোতেই উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের তাসের ঘর যেন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে। কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, পাপিয়া ঘোষ থেকে খগেশ্বর রায়,  দলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ এখন আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠেছে স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও গৌতম দেবের নেতৃত্ব নিয়ে।

TMC Inner Clash: কেউ ক্ষুব্ধ, কেউ ঘরছাড়া, কারও রাজনীতি ত্যাগের ঘোষণা; উত্তরবঙ্গে দল রাখাই গেরো TMC-রTMC Inner Clash: কেউ ক্ষুব্ধ, কেউ ঘরছাড়া, কারও রাজনীতি ত্যাগের ঘোষণা; উত্তরবঙ্গে দল রাখাই গেরো TMC-র
সংগ্রাম সিংহরায়
  • শিলিগুড়ি,
  • 07 May 2026,
  • अपडेटेड 8:45 PM IST

TMC Inner Clash: কেউ ঘরছাড়া, কেউ তিতিবিরক্ত হয়ে রাজনীতি ত্যাগের পথে, আবার কেউ বা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেই সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোতেই উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের তাসের ঘর যেন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে। কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, পাপিয়া ঘোষ থেকে খগেশ্বর রায়,  দলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ এখন আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠেছে স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও গৌতম দেবের নেতৃত্ব নিয়ে।

সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছেন মালদহ জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা পুরাতন মালদহ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ। ইংরেজবাজারের কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর সুরে সুর মিলিয়ে তিনি সরাসরি দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। কার্তিকবাবুর সাফ কথা, “এবারের ভোটে বাংলার মানুষ আসলে চরম অহংকারের পতন ঘটিয়েছে। প্রবীণ বিধায়ক-সাংসদদের বাড়ির চাকর-বাকর ভাবতেন অভিষেক। এই ঔদ্ধত্য আর আই-প্যাকের খবরদারিই দলকে ডোবাল।”

ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে কোচবিহারেও। প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের বিস্ফোরক দাবি, “২০১৬ সাল পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে রাশ থাকলেও, পরে দল চলে যায় অভিষেক আর আই-প্যাকের কব্জায়। সেখান থেকেই তোলাবাজদের আমদানি শুরু। দলকে যদি উদয়ন গুহ বা অভিজিৎ দে ভৌমিকদের মতো নেতাদের থেকে মুক্ত না করা যায়, তবে কোচবিহারে তৃণমূল আর কোনোদিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।” এদিকে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, দিনহাটার দাপুটে নেতা উদয়ন গুহ ও তাঁর ছেলে সায়ন্তন সপরিবারে রাজ্য ছেড়েছেন। এমনকি অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁদের পালানোর খবর সমাজমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল।

অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির বারোপাটিয়া এলাকা এখন কার্যত রণক্ষেত্র। তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর জখম হয়ে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নামতেই অনুগামীদের নিয়ে চম্পট দিয়েছেন কৃষ্ণ দাস। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরাই।

Advertisement

তবে রাজনীতির ময়দান থেকে চিরতরে বিদায়ের সুর শোনা গেল রায়গঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর গলায়। বিজেপির কাছে ৫৯ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে হার মেনে নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আর রাজনীতি নয়, এবার থেকে সমাজসেবা আর ব্যবসাতেই মন দেব।” সব মিলিয়ে উত্তরের হাওয়ায় এখন তৃণমূলের ঘরে শুধুই ভাঙনের সুর আর হারের হাহাকার।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement