
TMC leader Attacked Gangarampur Mathabhanga: সোমবার সকাল থেকে ভোটের ফল পরিষ্কার হতেই ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা। কোথাও জয়ের উল্লাস, আবার কোথাও হারের জ্বালায় শুরু হলো দফায় দফায় সংঘর্ষ। দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে তৃণমূল নেতার মাথায় ধারাল অস্ত্রের কোপ থেকে শুরু করে কোচবিহারের মাথাভাঙায় বাড়িতে হামলা ফল ঘোষণার দিনেই উত্তরবঙ্গজুড়ে ফিরে এল সেই পরিচিত রাজনৈতিক হিংসার ছবি।
গঙ্গারামপুরে রক্তপাত:
সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনাটি ঘটেছে গঙ্গারামপুরের মহারাজপুর এলাকায়। অভিযোগ, গণনা চলাকালীন বেলবাড়ি (২) গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল নেতা পরেশ বসাককে টার্গেট করে একদল সশস্ত্র যুবক। প্রকাশ্য রাস্তায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় কোপানো হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দাসের সাফ দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে। যদিও গেরুয়া শিবির সেই অভিযোগ যথারীতি অস্বীকার করেছে।
মাথাভাঙায় ‘বিজয় উৎসব’ ও হামলা:
অন্যদিকে, কোচবিহারের মাথাভাঙা ২ নম্বর ব্লকের পারডুবি এলাকাও আজ অগ্নিগর্ভ। বিজেপির জয়ের খবর আসতেই এলাকায় আবির খেলা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই উৎসবের মাঝেই তৃণমূল নেতা পরিমল মণ্ডলের বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায় একদল উন্মাদ জনতা। ভাঙা হয়েছে বাড়ির বেড়া, লুটপাটের চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ। একই চিত্র ১১ মাইল সংলগ্ন এলাকাতেও। সেখানে জহুরুল মিয়া নামে এক ব্যক্তির বাড়ি ও দোকান লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করা হয়, এমনকি তাঁর বাড়ির সামনে থাকা একটি জেসিভি (JCV) গাড়ির কাঁচও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
তরজা ও টহল:
বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি প্রতাপ সরকারের দাবি, “বিজেপির জয়জয়কারে তৃণমূল উন্মাদ হয়ে গিয়ে এই সব সাজানো অভিযোগ করছে। আমাদের কেউ এর সঙ্গে যুক্ত নয়।” তবে পুলিশের সক্রিয়তায় বড়সড় কোনো অঘটন এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘোকসাডাঙ্গা এবং গঙ্গারামপুর— দুই থানার পুলিশই এখন এলাকায় রুট মার্চ করছে। ফল ঘোষণার আনন্দে কোথাও যাতে আবার রক্তের দাগ না লাগে, তার জন্য কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন।