
বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ ভোট মিটলেও যেন কমার নাম নেই। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতায় ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি ঘিরে এখন চরমে উত্তেজনা। বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা সাধারণ ভোটার এবং বিরোধী এজেন্টদের ক্রমাগত ভয় দেখাচ্ছে। এমনকি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজর এড়িয়ে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি ও সংযুক্ত মোর্চা।
শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যখন বাসিন্দারা আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা (যা ৪ মে অনুষ্ঠিত হবে) সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) কর্মীদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো ও হুমকির অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমে আসেন। ঘটনার কিছুক্ষণ পর, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে।
অভিযোগের তির শাসক শিবিরের দিকে
বিরোধীদের দাবি, ভোটের দিন থেকেই ফলতার বিভিন্ন বুথে ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ভোটারদের লাইনে দাঁড়াতে বাধা দেওয়া থেকে শুরু করে এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কে ঘরবন্দি। স্থানীয় এক বিরোধী প্রার্থীর কথায়, "গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। মানুষকে নিজের ভোট নিজে দিতে দেওয়া হয়নি।"
তৃণমূলের পাল্টা দাবি
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিরোধীরা এখন সংবাদমাধ্যমের সামনে নাটক করছে। তাদের মতে, ফালতায় ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে এবং উন্নয়ন দেখেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। এলাকায় কোনও অশান্তি নেই বলেও দাবি তাঁদের।
পুনর্নির্বাচনের দাবি ও কমিশনের ভূমিকা
ইতিমধ্যেই ফলতার বেশ কিছু বিতর্কিত বুথে ফের ভোট বা 'রিপোল'-এর দাবি জানিয়েছে বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। তবে এই চাপানউতোরের মাঝে ফলতার সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন, রাজনৈতিক লড়াইয়ে শান্ত এই জনপদে শান্তি কবে ফিরবে?