
Voter Death In Raiganj: ২০২৬-এর বিধানসভা যুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে। কমিশনের নির্ঘণ্ট মেনেই আজ থেকে শুরু হয়েছে ৮৫ ঊর্ধ্ব ভোটারদের জন্য বাড়িতে বসে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া। কিন্তু এই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের প্রথম দিনেই এক মর্মান্তিক ও রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল রায়গঞ্জের মারাইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা।
সোমবার সকালে ভিটি কাটিহার গ্রামে ভোট নিতে গিয়েছিলেন বিএলও অলোক সুর রায় এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। নির্বাচন কমিশনের নিয়মে এদিন ৭৭ বছর বয়সি তনিজা বিবির ভোট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাড়ির চৌকাঠে ভোট পৌঁছালেও তা শেষ পর্যন্ত বিষাদে পরিণত হলো।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, বার্ধক্যজনিত কারণে তনিজা বিবির হাত কাজ করছিল না। তিনি ভোটকর্মীদের জানান, নিজে হাতে স্ট্যাম্প মারা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। তাই তিনি চেয়েছিলেন পরিবারের অন্য কেউ তাঁর হয়ে ভোটটি দিয়ে দিক। কিন্তু সেখানেই বাধে বিপত্তি। বিএলও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কমিশনের কড়া নিয়ম অনুযায়ী নিজের ভোট নিজেকেই দিতে হবে, অন্য কেউ প্রক্সি দিতে পারবেন না। এই নিয়ম ঘিরেই শুরু হয় দীর্ঘ বাদানুবাদ। একদিকে ভোটকর্মীদের নিয়ম রক্ষা, অন্যদিকে বৃদ্ধার শারীরিক অক্ষমতা। দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
অভিযোগ, বিএলও-র সঙ্গে কথা কাটাকাটি চলাকালীনই তনিজা বিবি চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং আচমকাই অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে প্রাণ হারান ওই বৃদ্ধা। তনিজা বিবির মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা সরাসরি ভোটকর্মী ও নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তোলেন। তাঁদের দাবি, ভোটকর্মীদের অনমনীয় মনোভাব এবং মানসিক চাপের কারণেই এই মৃত্যু ঘটেছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষিপ্ত জনতা ওই বিএলও এবং বাকি ভোটকর্মীদের একটি বাড়ির ভেতরে আটকে রেখে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ দেখান। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘেরাও মুক্ত করে ভোটকর্মীদের। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের মহকুমাশাসক তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে একটি অশান্তি হয়েছে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঠিক কী কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হলো, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের প্রথম দিনেই এমন প্রাণহানির ঘটনায় রায়গঞ্জ জুড়ে শোকের ছায়া যেমন নেমেছে, তেমনই কমিশনের কাজের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই মৃত্যু এখন রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল ফেলে দিয়েছে।