
Bengal Election Phase 1 Turnout: রেকর্ড গড়া বাঙালির সহজাত অভ্যাস। তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বাংলা যা দেখাল, তাতে ঘুম ছুটেছে রাজনৈতিক কারবারিদের। উত্তরবঙ্গের তিন জেলা, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভোটের হার ছাপিয়ে গিয়েছে অতীতের সমস্ত নজির। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, বিক্ষিপ্ত অশান্তি আর বোমাবাজির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই বুথে বুথে আছড়ে পড়েছে মানুষের ঢল। কিন্তু এই ‘বাম্পার’ ভোটদান কার পালে হাওয়া দেবে? ঘাসফুল না কি গেরুয়া শিবির। অঙ্ক মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে দুই পক্ষই।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মেজাজ ছিল চড়া। কোচবিহারের সিতাই থেকে মাথাভাঙ্গা। বারুদের গন্ধ আর রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই ভোটারদের লম্বা লাইন ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যখনই ভোটের হার নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পায়, তখন সাধারণত তা ‘পরিবর্তন’-এর ইঙ্গিত দেয়। বিজেপি এই বাড়তি ভোটকে তাদের সপক্ষে ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ বা শাসকবিরোধী হাওয়া হিসেবে দাবি করছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়েই বুথে এসে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসও। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে জনমুখী প্রকল্পগুলোর সুফল পেতেই মহিলারা দলে দলে ভোট দিতে এসেছেন। অর্থাৎ, এই বাড়তি ভোট আসলে ‘প্রো-ইনকামবেন্সি’ বা সরকারের কাজের সপক্ষে রায়। উত্তরবঙ্গের এই তিন জেলা গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি ছিল। এবার যদি তৃণমূল সেখানে দাঁত ফোটাতে পারে, তবে নবান্নের রাস্তা প্রশস্ত হবে। আর যদি পদ্ম-শিবির নিজের দুর্গ ধরে রাখতে পারে, তবে শাসক দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়বে। ইভিএমে বন্দি হওয়া এই বিপুল জনাদেশ শেষমেশ কার ভাগ্যোদয় ঘটায়, এখন সেটাই দেখার।