
ঘড়ির কাঁটা দশটা ছুঁইছুঁই। চারপাশ নিস্তব্ধ হলেও আলিপুরদুয়ারের ধনীরামপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘাটপাড় সরুগাওয়ের ২২ নম্বর বুথে তখন অন্য ছবি। আলোর তলায় তখনও কুন্ডলী পাকিয়ে রয়েছে মানুষের দীর্ঘ সারি। ক্ষোভ, ক্লান্তি আর বিরক্তি নিয়ে কয়েকশো ভোটার দাঁড়িয়ে রয়েছেন শুধুমাত্র একটি বোতাম টেপার আশায়। ইভিএমের ‘কচ্ছপ’ গতি আর যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে বৃহস্পতিবার এক আজব অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকল চব্বিশের ভোট-বাংলা। প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় অনেক আগে পেরিয়ে গেলেও, রাত বারোটা পর্যন্ত ভোট চলবে কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রবল সংশয়।
ঘাটপাড় সরুগাওয়ের এই বুথটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ১২৬৬। স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকেই ভোটযন্ত্রের গতি ছিল অত্যন্ত মন্থর। যান্ত্রিক সমস্যার কারণে একজন ভোটারের ভোট দিতে যে সময় লাগার কথা, তার চেয়ে অনেক বেশি সময় অপচয় হয়েছে। ফলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইনের দৈর্ঘ্য কমেনি, উল্টে বেড়েছে। রাত দশটা নাগাদ দেখা যায়, প্রায় ৩০০ জন মহিলা ও পুরুষ ভোটার তখনও বুথের বাইরে ঠাঁই দাঁড়িয়ে। তাঁদের একটাই প্রশ্ন, “সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি, কতক্ষণে বাড়ি ফিরব কেউ জানে না।”
প্রশাসনের কর্তারা যান্ত্রিক গোলযোগের কথা স্বীকার করলেও ভোটারদের এই ভোগান্তির দায় কে নেবে? রাত যত বাড়ছে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রবীণ ও মহিলাদের শারীরিক অবস্থা ততই খারাপ হচ্ছে। অনেকেরই আশঙ্কা, যে গতিতে ভোট এগোচ্ছে তাতে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মধ্যরাত পেরিয়ে যাবে। গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে এসে এমন চরম বিভ্রাটের মুখে পড়তে হবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি ওই এলাকার মানুষ। কমিশনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়ে রাতের অন্ধকারেও এখন ইভিএম ঘিরেই কাটছে প্রহর।