
বাংলায় ক্ষমতায় এসেই পশু জবাই নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিজেপি সরকার। আর সেই বিজ্ঞপ্তি নিয়েই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ মেনে চলার জন্যই জারি হওয়া এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জবাইয়ের আগে গবাদি পশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন পশুচিকিৎসক দ্বারা বাধ্যতামূলকভাবে করতে হবে। যা নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশে অস্বস্তি এবং অসন্তোষ দেখা গিয়েছে।
এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবার উত্তাল হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি সড়কের উপর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। পুলিশদের ছোটাছুটি করতে। কোথাও আবার টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে একদল বিক্ষুব্ধ জনতাকে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করতে ও প্রশাসনকে জলকামান ছুড়তেও দেখা যাচ্ছে।
ভিডিওটি পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়েছে, “শুভেন্দু হটাও কলকাতা বাঁচাও। আসন্ন কুরবানী ঈদে ভারতের মুসলিমদের গরু কোরবানি না দেওয়ার জন্য শুভেন্দু নিষেধাজ জারি করেছে। তারই প্রতিবাদে উত্তাল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গ নতুন পশু জবাই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির কোনও সম্পর্ক নেই। ভিডিওটি হত ফেব্রুয়ারি মাসের, এবং সম্পূর্ণ অন্য ঘটনা সম্পর্কিত।
সত্য উদ্ঘাটন
ভাইরাল ভিডিওতে 'বিশ্ব বাংলা News' নামের একটি সংবাদ মাধ্যমের লোগো দেখতে পাওয়া যায়। ওই সূত্র ধরে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে 'Biswa Bangla News-শিলিগুড়ি' নামের একটি ফেসবুক পেজ পাওয়া যায় যেখানে ওই একই লোগো ব্যবহার করা হয়েছে।
এরপর ওই পেজে ভিডিওটি খোঁজা হলে দেখা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আসল ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছিল। ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “শিলিগুড়ির তিনবাত্তি রাস্তায় পুলিশ ও অভিযানকারীদের পরিস্থিতি দেখুন।”
এর থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় হয়ে যায় যে এর সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তির কোনও সম্পর্ক থাকা সম্ভব নয়।
Biswa Bangla News-এর পেজে ২৬ ফেব্রুয়ারি আরেকটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল যেখানে পুলিশের ব্যারিকেড প্রস্তুত করতে দেখা যাচ্ছে। সঙ্গে লেখা হয়, “উত্তরকন্যা অভিযান। এই মুহূর্তে প্রচুর পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে তিনবাত্তি মোড়ের কাছে।” এর থেকে আন্দাজ পাওয়া যায় যে আসল ঘটনাটি উত্তরকন্যা অভিযানের হতে পারে।
এই সূত্র ধরে সার্চ করা হলে একাধিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর পাওয়া যায়। এবিপি আনন্দ, News18 বাংলার মতো একাধিক সংবাদ মাধ্যমে ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পাওয়া খবরে বলা হয়, দার্জিলিংয়ের ফাঁসিদেওয়ায় এক আদিবাসী মহিলাকে নির্যাতনের অভিযোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জমি সংক্রান্ত কোনও সমস্যার জেরে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
আরও জানা যায় যে, ওই মহিলা সেই সময় অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকেই পেটে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ। মারধরেই গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। এরপরেই উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দেওয়া হয় একাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে। মিছিল শুরু হতেই ধুন্ধুমার পরিস্থিতি শুরু হয় শিলিগুড়িতে।
ফলে সবমিলিয়ে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, শিলিগুড়ির একটি পুরনো এবং অসম্পর্কিত ভিডিওকে বর্তমানে বিভ্রান্তিকর দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হচ্ছে।
আসন্ন কুরবানি ঈদে গরু কোরবানি বন্ধে শুভেন্দু অধিকারীর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষোভ হচ্ছে।
এটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শিলিগুড়িতে ‘উত্তরকন্যা অভিযান’-কে ঘিরে হওয়া বিক্ষোভের পুরনো ভিডিও।