Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: রেফারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচে সমর্থকদের সংঘর্ষ?

আজতক ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনে দেশটির দুটি ক্লাব অলিম্পিয়া ও সেরো পোর্তেনিওর মধ্যে আয়োজিত ম্যাচে সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের দৃশ্য।

সুরাজউদ্দিন মণ্ডল
  • কলকাতা,
  • 14 Jul 2026,
  • अपडेटेड 3:53 PM IST

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে রেফারিং নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক বিতর্ক। প্রথমে আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহার। পরবর্তীতে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে হারের পরেই ম্যাচে মহম্মদ সালাহদের করা একটি গোল বাতিল এবং রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুঁসছে গোটা মিশর। ইতিমধ্যে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তাঁর রেফারিং দলের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে লিখিতভাবে পক্ষপাতিত্ব অভিযোগ জানিয়েছেন মিশরের ফুটবল সংস্থা।

আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে কোনও একটি স্টেডিয়ামের ভিতরে উপস্থিত সমর্থকদেরকে সেখানে উপস্থিত পুলিশকর্মীদেরকে মারধর করতে এবং তাদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচে রেফারি এবং ফিফার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্টেডিয়ামেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন সমর্থকরা।

উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “রেফারি এবং ফিফার দু*র্নী*তি করায় স্টেডিয়ামে ঘটে গেছে এক ম*র্মা*ন্তি*ক ঘটনা #রেফারি #FIFAWorldCup।"

আজতক ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনে দেশটির দুটি ক্লাব অলিম্পিয়া ও সেরো পোর্তেনিওর মধ্যে আয়োজিত ম্যাচে সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের দৃশ্য।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল আল জাজিরার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে অন্য ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থেকে তোলা এই একই ঘটনার একটি ভিডিও পাওয়া যায়। সেই ভিডিও-র সঙ্গে ভাইরাল ভিডিও-র একাধিক ফ্রেমের মিলও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিও-র শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, “প্যারাগুয়ের ফুটবল ম্যাচে সমর্থকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”

অন্যদিকে, ভিডিও-র বিস্তারিত অংশ থেকে জানা যায়, সেটি ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনে দেশটির দুটি ক্লাব অলিম্পিয়া ও সেরো পোর্তেনিওর মধ্যে আয়োজিত ম্যাচে সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের দৃশ্য। সংঘর্ষের এক পর্যয়ে সমর্থকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে থাকে। অন্যদিকে পুলিশ ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে।

Advertisement

এরপর উক্ত তথ্যের উপরে ভিত্তি করে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে বিবিসি, দ্য সান এবং আল জাজিরা-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ভাইরল ভিডিও এবং সেটির স্ক্রিনশট-সহ সেই সব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল, রবিবার প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের ডিফেনসোরেস দেল চাকো স্টেডিয়ামে দেশটির দুটি প্রধান ক্লাব অলিম্পিয়া ও সেরো পোর্তেনোর মধ্যে ‘সুপারক্লাসিকো’ ম্যাচ আয়োজিত হয়। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে সেরো পোর্তেনোর সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ অংশে আতশবাজি ফোটানোর অভিযোগে বিবাদ শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তা সংঘর্ষেের রূপ নেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তাপ্ত হয়ে ওঠে যে রেফারি মাত্র ২৯ মিনিটের মাথায় ম্যাচটি স্থগিত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ১০০ জনের বেশি অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।

এর থেকে প্রমাণ হয়ে যায় যে ভাইারাল ভিডিওটির সঙ্গে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ চলতি বছরের বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হয়েছিল গত ১২ জুন থেকে। অন্যদিকে ভাইরাল ভিডিওটি তার অনেক আগের ঘটনা।

Fact Check

Claim

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচে রেফারি এবং ফিফার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্টেডিয়ামেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন সমর্থকরা।

Conclusion

ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল প্যারাগুয়ের দুটি ক্লাবের ম্যাচে সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের দৃশ্য।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement