
পালা বদলের বাংলায় ক্ষমতায় এসে গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জবাইয়ের আগে একজন পশুচিকিৎসকের দ্বারা গবাদি পশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন করা আবশ্যিক। বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই মুসলিম সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশে অস্বস্তি এবং অসন্তোষ দেখা গিয়েছে।
এমনকি এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে ৷ কিন্তু রাজ্য সরকারের নির্দেশের উপর কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি উচ্চ আদালত। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে সাধারণ মানুষের উপরে লাঠিচার্জ করতে দেখা যাচ্ছে বেশকিছু পুলিশ কর্মীকে।
ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ভারতে গরু জবাই সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশ বদলানোর দাবিতে বিক্ষোভরত মুসলিমদেরকে বেধড়ক মারধর করেছে পুলিশ। উদাহরণস্বরূপ, ভিডিওটি শেয়ার করে সেটির ফ্রেমের উপরে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ভারতে গরু জবেহ নিয়ে হাইকোর্টের আইন বদলানোর দাবিতে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ।” পাশাপাশি, ক্যাপশনে লেখা হয়েছে “ভারতে বিক্ষোভকারী মুসলিমদের উপর পুলিশের লাঠিচা*র্জ।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গ পশু জবাই সংক্রান্ত আইন বা বিজ্ঞপ্তির কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি চলতি বছরের ১৭ মে লখনউয়ের কাইজারবাগ সিভিল কোর্ট সংলগ্ন অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী আইনজীবীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জের দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলিকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ১৭ মে একটি এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ভিডিও-র ক্যাপশন অনুযায়ী, সেটি উত্তর প্রদেশের লখনউতে ক্ষুব্ধ আইনজীবীদের ওপর লাঠিচার্জের দৃশ্য।
এই সংক্রান্ত পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে সংবাদ সংস্থা ANI-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এবং MSN হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেই পোস্ট থেকে জানা যায়, হাইকোর্টের নির্দেশে উত্তর প্রদেশের কাইজারবাগের দেওয়ানি আদালত এবং এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চের বাইরে আইনজীবীদের তরফে নির্মিত একাধিক চেম্বার ভাঙতে অভিযান চালায় পৌরসভা। এই অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষুদ্ধ আইনজীবীরা ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। তখন সেখানে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা বিক্ষোভকারী আইনজীবীদের ছত্রভঙ্গ করতে তাদের উপর লাঠিচার্জ করে।
তবে এখানে উল্লেখ্য, বাংলার নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বকরি ইদে গরু কুরবানী নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। অন্যদিকে এই নতুন নির্দেশিকার জেরে রাজ্যের একাধিক জায়গায় হিন্দু গবাদি পশু ব্যবসায়ী এবং কৃষকরা ‘বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি’ সম্মুখীন হতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এর থেকে প্রমাণ হয় যে, গবাদি পশু জবাইয়ের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ দাবিতে ছড়াল লখনউয়ে আইনজীবীদের বিক্ষোভের অসম্পর্কিত ভিডিও।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভারতে গরু জবাই সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশ বদলানোর দাবিতে বিক্ষোভরত মুসলিমদেরকে বেধড়ক মারধর করেছে পুলিশ।
ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গ পশু জবাই সংক্রান্ত আইন বা বিজ্ঞপ্তির কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি চলতি লখনউয়ের কাইজারবাগ সিভিল কোর্ট সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী আইনজীবীদের ছত্রভঙ্গের দৃশ্য।