
দু’দফায় অনুষ্ঠিত হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফার প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল সোমবার, ৬ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় হতে চলা ভোটের প্রার্থীরা ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন। এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি বেশ ভাইরাল হয়েছে যেখানে জনাকয়েক ব্যক্তিকে গলায় বিজেপির উত্তরীয় এবং মালা পরে ছুটতে দেখা যাচ্ছে।
এই ছবির সঙ্গে একটি দীর্ঘ কথোপকথন মূলক ক্যাপশনও লেখা হয়েছে। তবে সেই ক্যাপশনে মূলত দাবি করা হচ্ছে যে, প্রথম দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন অর্থাৎ ৬ এপ্রিল, সোমবারই কালীগঞ্জ ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হয়েছে, বা প্রকাশ্যে এসেছে। তাই শেষ সময়ে কোনও মতে ছুটে-দৌড়ে মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছেন বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষ ও সাধন ঘোষ।
ক্যাপশনের মূল অংশে লেখা হয়েছে, “আসল ঘটনা হল, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় দুপুর ৩ টে। সোমবার কালীগঞ্জ ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী খুঁজে পাওয়া গেছে। হাতে সময় কম, তখন বাজে ২ টো ৫০ মিনিট। ১০ মিনিট হাতে সময় নিয়ে , দে দৌড়। মহকুমাশাসকের দপ্তরের দিকে ছুটছেন বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষ , সাধন ঘোষ । কৌতুহলী মানুষের প্রশ্ন, এখনও প্রার্থী খুঁজছে বিজেপি , এরা আবার বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখে।” (বানান অপরিবর্তিত)
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে দাবিটি বিভ্রান্তিকর। কারণ কালীগঞ্জ ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীদের নাম ১৬ এবং ১৯ মার্চই ঘোষণা করা হয়েছে। তাই সোমবার প্রার্থী খুঁজে পাওয়া গিয়েছে দাবিটি সঠিক নয়।
সত্য উদঘাটন
ভাইরাল ছবিটি কিছু কিওয়ার্ডের মাধ্যমে খোঁজা হলে সবার প্রথম ৬ এপ্রিল News 18 বাংলায় প্রকাশিত একটি রিপোর্ট পাওয়া যায়। “হাতে মনোনয়ন পত্র, দৌড়চ্ছেন বিজেপি প্রার্থী! কৃষ্ণনগরে বড় কাণ্ড, নিজেদের 'ফাঁদেই' আটকে গিয়ে যা ঘটল...”, শীর্ষক এই রিপোর্টে লেখা হয়, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় ফুরিয়ে আসায় বিজেপি প্রার্থীরা ছোটাছুটি করে জেলাশাসকের দফতরে পৌঁছন। তবে এই রিপোর্টে কোথাও উল্লেখ পায়নি যে সোমবার অর্থাৎ ৬ এপ্রিলই কালীগঞ্জ ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।
ওই প্রতিবেদন অনুসারে, সেদিন কালীগঞ্জ ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষ ও সাধন ঘোষ ছাড়াও কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের তারক চ্যাটার্জী, নাকাশিপাড়া কেন্দ্রের শান্তনু দে এবং চাপড়া কেন্দ্রের সৈকত সরকার মনোনয়ন জমা দেন।
এই সূত্র ধরে বিজেপির আধিকারিক পেজে প্রকাশিত প্রার্থীতালিকা খোঁজা হলে দেখা যায়, গত ১৬ মার্চ প্রকাশিত বিজেপির প্রথম প্রার্থীতালিকায় কালীগঞ্জের প্রার্থী বাপন ঘোষের নাম ছিল।
এরপর ১৯ মার্চ বিজেপির যে প্রার্থীতালিকা প্রকাশ পায়, সেখানে নাম ছিল কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, নাকাশিপাড়া ও চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সাধন ঘোষ, শান্তনু দে ও সৈকত সরকারের।
এ ছাড়া গত ৪ এপ্রিল বিজেপি আরেকটি প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করে। যেখানে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী তারকনাথ চ্যাটার্জীর নাম প্রকাশ পায়।
বিজেপি প্রার্থীদের ছোটাছুটির বিষয়ে আরও সার্চ করা হলে সংবাদ প্রতিদিন ও আজকালে দুটি রিপোর্ট পাওয়া যায়। উভয় রিপোর্ট অনুযায়ী, কৃষ্ণনগর শহরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার উপলক্ষে আয়োজিত রোড শো মিছিলের জেরে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। সেই যানজটে আটকেই সময় পেরিয়ে যেতে থাকলে কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী সাধন ঘোষ এবং চাপড়া কেন্দ্রের প্রার্থী সৈকত সরকার জেলাশাসকের দফতরে সময়ের মধ্যে পৌঁছতে দৌড় লাগান। তবে শেষ পর্যন্ত সময়েই জেলাশাসকের দফতরে পৌঁছে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন ওই দুই প্রার্থী।
অর্থাৎ, বুঝতে বাকি থাকে না যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত দাবিটি বিভ্রান্তিকর। কারণ বাপন ঘোষ ও সাধন ঘোষ, এই দুই বিজেপি প্রার্থীর নাম গত ১৬ এবং ১৯ মার্চেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল এবং যানজটে আটকে যাওয়ার কারণে তাঁরা ছুটছিলেন।
মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই কালীগঞ্জ ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হয়। তাই সময়ের অভাবে দৌড়াদৌড়ি করে মনোনয়ন জমা দিতে যান বাপন ঘোষ ও সাধন ঘোষ।
কালীগঞ্জ ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থীদের নাম ১৬ ও ১৯ মার্চেই ঘোষণা করা হয়েছিল। ভাইরাল ছবিতে দেখা দৌড়াদৌড়ির কারণ ছিল যানজটের কারণে দেরি হয়ে যাওয়া, প্রার্থী ঘোষণা দেরিতে হওয়া নয়।