Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: ভারতীয়দের কাছে সাহায্যের আর্তনাদ বাংলাদেশি হিন্দু যুবতীর? না, ভিডিওটি AI নির্মিত

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভারতীয়দের কাছে বাংলাদেশি হিন্দু যুবতীর সাহায্য চাওয়ার ভিডিওটি বাস্তব কোনও ঘটনার নয়। বরং সেটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

সুরাজউদ্দিন মণ্ডল
  • কলকাতা,
  • 06 Jan 2026,
  • अपडेटेड 9:34 AM IST

বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনার দেশ থেকে পালানোর পর সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপরে একাধিক হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। যেমন, সম্প্রতি ময়মনসিংহ শহরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস নামক এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং পরবর্তীতে তার দেহ পুড়িয়ে দেয় মৌলবাদীরা। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও। 

যেখানে এক যুবতীকে কাঁদতে কাঁদতে ভারতীয়দের কাছে সাহয্য চায়তে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “ইন্ডিয়ান দাদারা, আমি বাংলাদেশ থেকে বলছি। একটা ছেলে আমাকে বলছে, তুমি আমাকে বিয়ে করে নাও, আমি তোমাকে সব দেখব, নিরাপদ রাখুম। কিন্তু দাদা, আমি খুব ভয় পাচ্ছি।” ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, মুসলিমদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভারতীয়দের সাহায্য চায়ছে এক বাংলাদেশি হিন্দু যুবতী।

উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “বাংলাদেশ থেকে আরও একটি সনাতনী বোনের আর্তনাদ একজন ভারতীয় সংখ্যালঘু পরিবারের সন্তান হয়ে হৃদয় কে কাঁদিয়ে দিল, ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ বাংলাদেশকে চরম শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন আছে! ইসলাম ধর্ম তো মানবতার মানুষের আতঙ্ক তৈরির জন্য নয় কিন্তু বিশ্বজুড়ে আতঙ্কে পরিবেশ তৈরি হচ্ছে কেন? #SaveBangladeshiHindus” (সব বানান অপরিবর্তিত) 

আরও পড়ুন

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভারতীয়দের কাছে বাংলাদেশি হিন্দু যুবতীর সাহায্য চাওয়ার ভিডিওটি বাস্তব কোনও ঘটনার নয়। বরং সেটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

সত্য উন্মোচন

প্রথমত, ভাইরাল ভিডিওটি সন্দেহজনক। করাণ সেটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে সেখানে থাকা যুবতীর ভয়েসের সঙ্গে লিপ সিঙ্কের অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। এমনকি ওই যুবতীর মুখের আকৃতি এবং চোখের জলের মধ্যেও একই ধরনের অসঙ্গতি দেখা যায়। যা থেকে অনুমান করা যায় যে ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করাও হতে পারে। এমনকি, ভিডিও-র কমেন্ট সেকশনে অনেকেই সেটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে উল্লেখ করেছেন।

Advertisement

তাই এরপর ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কিফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলি গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর ‘All Time Happy’ নামক একটি ফেসবুক পেজে ভাইরাল ভিডিওটির সব থেকে পুরনো এবং মূল সংস্করণটি পাওয়া যায়। যদিও ভিডিও-র ক্যাপশনে সেটি সম্পর্কে কোনও তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে ফেসবুক পেজটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে সেখানে বাংলাদেশে এবং পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের করুণ অবস্থা সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও পাওয়া যায। প্রত্যেকটি ভিডিওতেই ভাইরাল ভিডিও-র মতোই অসঙ্গতি দেখা যায়। যা থেকে সেগুলিও এআই দিয়ে তৈরি বলে সন্দেহ তৈরি হয়। 

তবে বিষয়টি সম্পর্কে একশো শতাংশ নিশ্চিত হতে এরপর আমরা ভাইরাল ভিডিওটিকে DeepFake-o-meter নামক এআই যাচাইকারী ওয়েবসাইটে পরীক্ষা করি। একাধিক টুলসের সাহায্যে ওয়েবসাইটি নিশ্চিতভাবে জানিয়েছে যে ভাইরাল ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

 

 

এর থেকে প্রামাণ হয় যে, ভারতীয়দের কাছে বাংলাদেশি হিন্দু যুবতীর সাহায্য চাওয়ার দৃশ্য দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা হচ্ছে এআই নির্মিত ভিডিও।

Fact Check

Claim

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুসলিমদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভারতীয়দের সাহায্য চায়ছে এক বাংলাদেশি হিন্দু যুবতী।

Conclusion

ভারতীয়দের কাছে বাংলাদেশি হিন্দু যুবতীর সাহায্য চাওয়ার ভিডিওটি বাস্তব কোনও ঘটনার নয়। বরং সেটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement