Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে তথ্য দিয়ে খালি হলো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট? ভাইরাল ভিডিও-র সত্যতা জানুন

আজতক ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি মালদার ইংরেজবাজারে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের মালিকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারিত গ্রাহকদের বিক্ষোভের দৃশ্য।

সুরাজউদ্দিন মণ্ডল
  • কলকাতা,
  • 01 Jul 2026,
  • अपडेटेड 3:54 PM IST

আজ, বুধবার রাজ্যের ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩,০০০ টাকা। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে হুল দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে একথা ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর আগে নিজের ও পরিবারের সকল সদস্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট-সহ নানা তথ্য দিয়ে ১২ পাতার ফর্মে আবেদন করতে হয়েছিল এই প্রকল্পের প্রত্যাশীদের।

আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে বেশকিছু গ্রহককে নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা জালিয়াতির অভিযোগ তুলে একটি ব্যাঙ্কের ভিতরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে ব্যাংকের তথ্য দেওয়ার পর থেকে অবেদনকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেছে তাদের জমানো অর্থ। এর জেরে ব্যাঙ্কে ঢুকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে গ্রাহকরা।

উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা উধাও হচ্ছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার এর ফরম ফিলাপের পর থেকে।" 

আজতক ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি মালদার ইংরেজবাজারে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের মালিকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারিত গ্রাহকদের বিক্ষোভের দৃশ্য।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ২৫ জুন একটি ফেসবুক প্রোফাইলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেই পোস্ট অনুযায়ী, ভাইরাল ভিডিওটি মালদার কাজীগ্রাম এলাকার একটি এলাহবাদ (বর্তমানে ইন্ডিয়ান ব্যাংক) ব্যাংকের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের ঘটনা।
 



এই সংক্রান্ত আরও অনুসন্ধান চালালে ২০২৬ সালের ২৪ জুন অপর একটি ফেসবুক প্রোফাইলে এই ঘটনার অন্য একটি ভিডিও পাওয়া যায়। যেখানে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা গ্রাহক তথা বিক্ষোভকারীদেরও দেখা যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে লেখা হয়েছে, “নিত্যানন্দপুর এলাহাবাদ ব্যাংক ম্যানেজার - সত্যজিৎ লালা এবং তার স্ত্রী নিপা দাস ..গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকার প্রতারণা .. পুরো ফ্যামিলি নিয়ে ওদাও। P.O- কাজিগ্রাম চন্ডিপুর (মালদা)।” পাশাপাশি, RCTV সংবাদ নামক একটি সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজেও এই এই একই তথ্য-সহ একই ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায়। যেখানে প্রতারিত তথা বিক্ষোভকারী গ্রাহকদের গ্রহক সেবা কেন্দ্রের মালিক সত্যজিৎ লালার বিরুদ্ধে তাদের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করতে দেখা যাচ্ছে।

Advertisement

পরবর্তী অনুসন্ধানে এইসময়-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মালদার ইংরেজবাজারে এলাহবাদ ব্যাংকের (বর্তমানে ইন্ডিয়ান ব্যাংক) একটি গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের মালিকের বিরুদ্ধে অভিনব কায়দায় গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ জালিয়াতি করে অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযুক্ত গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের মালিক সত্যজিৎ লালার শাস্তি এবং নিজেদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে উক্ত ব্যাঙ্কের মূল ব্রাঞ্চে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন গ্রাহকরা।

এই ঘটনায় গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের মালিক সত্যজিৎ লালার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে ইংরেজ বাজার থানার পুলিশ। পাশাপাশি, বিষয়টি সম্পর্কে একশো নিশ্চিত হতে এরপর আজতক বাংলার মালদা জেলা সাংবাদিক মিলটন পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনিও এই একই তথ্য প্রদান করেন এবং জানান, এই ঘটনার সঙ্গে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কোনও সম্পর্ক নেই।

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সঙ্গে মিথ্যে সম্পর্কে জুড়ে ছড়ানো হচ্ছে ব্যাংকের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের মালিকের জালিয়াতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ভিডিও।

Fact Check

Claim

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে ব্যাংকের তথ্য দেওয়ার পরেই অবেদনকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে তাদের জমানো অর্থ উধাও হয়ে যাওয়ায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন গ্রাহকরা।

Conclusion

ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি মালদার ইংরেজবাজারে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের মালিকের বিরুদ্ধে লক্ষ-লক্ষ টাকা জালিয়াতির অভিযোগে গ্রাহকদের বিক্ষোভের দৃশ্য।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement