
পালা বদলের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক রাজনৈতিক হিংসার খবর সামনে এসেছে। এই আবহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে একটি মসজিদের সামনের রাস্তা থেকে উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ভিড়কে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে দেখা যাচ্ছে বেশকিছু যুবককে। এমনকি তাদের মধ্যে অনেককে লাঠি হাতে ভিড়ের দিকে ছুটে যেতেও দেখা যাচ্ছে।
ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে সেটির ফ্রেমের উপরে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ব্রেকিং নিউজ আলহামদুলিল্লাহ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা রুখে দাঁড়িয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, কট্টরপন্থী হিন্দুদের শা*য়ে**স্তা করতে এক হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সমগ্র মুসলিম সমাজ।” পাশাপাশি, ক্যাপশনে লেখা হয়েছে “আলহামদুলিল্লাহ পশ্চিমবঙ্গের রুখে দাঁড়িয়েছে মুসলিমরা।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ তো নয়ই, এমনকি ভারতের সঙ্গেও কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এটি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে নেপালের বাঁকে জেলার নেপালগঞ্জে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদের দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলিকে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ৩ অক্টোবর নেপালের নেপালগঞ্জ ভিত্তিক সাংবাদিক Jageshwar Shing Tharu-র ফেসবুক প্রোফাইলে অন্য ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থেকে তোলা এই একই ঘটনার একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিও-র ক্যাপশন সেটিকে নেপালগঞ্জে ধর্মীয় কারণে সৃষ্টি বিবাদের দৃশ্য হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর Jageshwar Shing Tharu-র ফেসবুক প্রোফাইলে প্রাপ্ত একই ভিডিও-সহ নেপালভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে TV Annapurna-র অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, “নেপালগঞ্জে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের সময় শুক্রবার দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ।”
যদিও আমরা আমাদের অনুসন্ধানে ভাইরাল ভিডিও-র মূল কিংবা কোনও পুরনো সংস্করণ খুঁজে পাইনি। তাই এরপর আমরা নেপালের সাংবাদিক Jageshwar Shing Tharu-র তরফে শেয়ার করা ভিডিও এবং ভাইরাল ভিডিও যে একই ঘটনার সে বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হতে উভয় ভিডিও-র ফ্রেমের মধ্যে তুলনা করি। তখন আমরা উভয় ভিডিওতে থাকা মসজিদের গেট, ছাদে লাগানো মাইক, জলের ট্যাঙ্কের এবং দেওয়ালের মধ্যে হুবহু মিল খুঁজে পাই। যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় ভিডিও দুটি একই ঘটনার। নীচে উভয় ভিডিও-র তুলনা দেখা যাবে।
এরপর উক্ত সূত্র ধরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে এই একই ঘটনার ছবি-সহ নেপালি-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর নেপালের বাঁকে জেলার নেপালগঞ্জে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা বার করেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা। এক পর্যয়ে শোভাযাত্রাটি যখন স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে উপস্থিত। তখন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের ব্যাক্তিদের তরফে শোভাযাত্রা থেকে উচ্চস্বরে মাইক বাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয় এবং এক পর্যয়ে তারা শোভাযাত্রা লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে থাকে। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ও বিবাদ শুরু হয়।
এর থেকে প্রমাণ হয় যে, পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা দাবি করে শেয়ার করা হচ্ছে নেপালের পুরনো গোষ্ঠী সংঘর্ষের ভিডিও।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা।
ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নয়। বরং এটি ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে নেপালের বাঁকে জেলার নেপালগঞ্জে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদের দৃশ্য।