
রাত পোহালেই বিধানসভা নির্বাচন। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় রাজ্যের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি কেন্দ্রে হবে ভোটগ্রহণ। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে হিন্দি সংবাদমাধ্যম নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদনের একটি ক্লিপ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসানসোলে একটি পুলিশের বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন এক কিশোরী-সহ মোট ১২ জন। বাসটি চালাচ্ছিলেন একজন মদ্যপ সিআইএসএফ জওয়ান।
অন্যদিকে এই ক্লিপটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, আসানসোলে তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের র্যালি চলাকালীন ১২ জনকে পিষে দিয়েছে সিআইএসএফের একটা গাড়ি এবং এই ঘটনা নিহত হয়েছেন ৩ জন। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ক্লিপটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আসানসোলে ইউসুফ পাঠানের র্যালি চলাকালীন CISF-এর একটা গাড়ি এসে ১২ জন কে পিষে দিয়ে চলে যায়। ৩ জন নিহত। গতবার শীতলকুচিতে গুলি করে হত্যা করেছিল, এবার গাড়ি দিয়ে পিষে মেরে ফেললো। আর কত প্রাণ নেবে ওরা? সব কিছুর হিসেব হবে!!”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ক্লিপটির সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের র্যালির কোনও সম্পর্ক নেই। বরং চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল মধ্যরাতে আসানসোলে পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় একজন আহত হলেও, কারোর মৃত্যু হয়নি। পাশাপাশি, আহত যুবতীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
সত্য উন্মোচন
প্রথমত, ভাইরাল দাবিটি সন্দেহজনক। কারণ নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদনের যে ক্লিপটি শেয়ার করা হয়েছে সেখানে এই দুর্ঘটনায় এক কিশোরী-সহ মোট ১২ জনের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ক্লিপটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ১২ জনকে পিষে দিয়ে চলে যায় এবং তাদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ এক পোস্টে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে দুটি ভিন্ন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশপাশি, এই সংক্রান্ত তথ্য জানতে নিউজ ২৪-এর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে অনুসন্ধান চালালে আমরা লক্ষ্য করি, চ্যানেলটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে ক্লিপটি অপলোড করা হলেও তা পরবর্তীতে ডিলিট করে দেওয়া হয়।
তাই এরপর বিষয়টি সম্পর্কে আরও জানতে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে এই একই দুর্ঘটনার ভিডিও-সহ এবিপি আনন্দের ইউটিউব চ্যানেলে এবং চলতি বছরের ২০ এপ্রিল চ্যানেলটির ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯ এপ্রিল, রবিবার রাত ১২টা নাগাদ আসানসোলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরপর কয়েকটি টোটো এবং অটোতে ধাক্কা মারে পুলিশের একটি গাড়ি। এই ঘটনায় এক তরুণী-সহ বেশ কয়েকজন জখম হন। তবে গাড়ি রাজ্য পুলিশের হলেও সেটি চালাচ্ছিলেন সিআইএসএফ-এর মদ্যপ এক জওয়ান। ঘটনার পর গাড়িটি আটকে পড়লে তাতে ভাঙচুর চালান স্থানীয়রা এবং চালককে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
তবে প্রতিবেদনের কোথাও এই ঘটনায় কারোর নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপশি সেটিকে তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের র্যালির দৃশ্যও বলা হয়নি। পাশাপশি, অনুসন্ধানে ২২ এপ্রিল নিউজ ২৪-এর ইউটিউব চ্যানেলে এই সংক্রান্ত অন্য একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে চ্যানেলটি নিশ্চিত করেছে এই দুর্ঘটনায় কারোর মৃত্যু হয়নি। তাদের তরফে প্রথমে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে যে তথ্য প্রকাশ করা হয় সেটি ভুল ছিল। অন্যদিকে ২২ এপ্রিল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। যেখানে এই দুর্ঘটনায় কারোর মৃত্যু হওয়ার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ মিথ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, বিষয়টি সম্পর্কে আরও জানতে আমরা আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানা, “গত ১৯ এপ্রিল মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ (এসএপি) ৭ম ব্যাটালিয়নের একটি বাস আসানসোলের জাহাঙ্গীর মহল্লাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামন্য একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই ঘটনায় একজন আহত হলেও, কারোর মৃত্যু হয়নি। তবে আহত যুবতীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। পাশাপশি, এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের র্যালির কোনও সম্পর্ক নেই। যারা এই বিষয়ে ফেক নিউজ ছড়াচ্ছে আমরা তাদেরকে চিহ্নিত করছি এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর থেকে প্রমাণ হয় যে, আসানসোলে পুলিশের গাড়ির দুর্ঘটনা নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে ভুয়ো তথ্য।
আসানসোলে তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের র্যালি চলাকালীন ১২ জনকে পিষে দিয়েছে সিআইএসএফের একটা গাড়ি এবং এই ঘটনা নিহত হয়েছেন ৩ জন।
এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানের র্যালির কোনও সম্পর্ক নেই। গত ১৯ এপ্রিল মধ্যরাতে আসানসোলে পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় একজন আহত হলেও, কারোর মৃত্যু হয়নি। পাশাপাশি, আহত যুবতীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।