
অবশেষে বাংলা জুড়ে ফুটল পদ্মফুল। রেকর্ড ২০৬টি আসন পেয়ে ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারকে গদিচ্যুত করে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় বিজেপি। সোমবার রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে হয় গণনা। কারণ এর আগে ইভিএম কারচুপির অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে নতুন করে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে কমিশন। আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫ ভোটকেন্দ্রে আবার ভোটগ্রহণ হবে। আর ভোটগণনা হবে আগামী ২৪ মে। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি পোস্ট।
যেখানে দাবি করা হচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে ক্যানিং থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদাহরণস্বরূপ, জাহাঙ্গির খান এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার ছবি-সহ এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “নকল "পুষ্পা" এবার মায়ের ভোগে,,, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দান হাত জাহাঙ্গির খান ক্যানিং থেকে গ্রেফতার, বাংলাদেশ পালানোর চেষ্টা করছিলো..!! এখন বাকীটা "সিংঘম"অজয় পাল শর্মা বুঝে নেবে।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারের দাবিটি ভিত্তিহীন। আজতক ফ্যাক্ট চেককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।
সত্য উন্মোচন
প্রথমত, ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারের দাবিটি সন্দেহজনক। কারণ জাহাঙ্গির খানের মতো দাপুটে তৃণমূল নেতাকে বাংলাদেশে পালানোর পথে ক্যানিং থেকে গ্রেফতার করা হলে সেই সংক্রান্ত খবর অবশ্যই প্রথম শ্রেণির বাংলা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হবে। কিন্তু অনুসন্ধানে এমন কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি যা থেকে এর সত্যতা প্রমাণ হয়।
তবে এরপর বিষয়টি সম্পর্কে জানতে আজতক ফ্যাক্ট চেকের তরফে প্রথমে ক্যানিং থানার আইসি অমিত হাতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, “ক্যানিং থেকে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতার করেনি ক্যানিং থানার পুলিশ।” এরপর এই একই বিষয় সম্পর্কে জানতে আমরা জাহাঙ্গির খানের নিজস্ব এলাকা তথা ফলতা থানার আইসি পার্থ প্রতিম ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনিও আমাদের এই একই তথ্য প্রদান করে জানান, “জাহাঙ্গির খানকে গ্রেফতার করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে ভুয়ো খবর প্রচার করছে, যা আমাদের নজরে এসেছে।”
পাশাপশি, বিষয়টি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে এরপর আমরা আজতকের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সাংবাদিক প্রসেনজিৎ সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রসেনজিৎও আমাদের নিশ্চিত করেন যে “জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতার হওয়ার দাবিটি ভুয়ো।”
এর থেকে প্রমাণ হয় যে, ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতার হওয়া নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে ভুয়ো সংবাদ।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে ক্যানিং থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারের দাবিটি ভিত্তিহীন। আজতক ফ্যাক্ট চেককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।