Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: SIR-এর প্রতিবাদে বিজেপি নেতার গায়ে ছোড়া হল কালি? ছবির সত্যতা ভিন্ন

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ছবিটির সঙ্গে এসআইআর  কিংবা আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং সেটি ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ ঠাকুরপুকুরের আনন্দনগর বাজার এলাকায় দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যের এক অনুগামীর ওপর দলেরই অন্য গোষ্ঠীর কর্মীদের আক্রমণ এবং কালি ছোঁড়ার দৃশ্য।

সুরাজউদ্দিন মণ্ডল
  • কলকাতা,
  • 26 Mar 2026,
  • अपडेटेड 4:26 PM IST

রাজ্যে বেজে গিয়েছে বিধানসভা ভোটের দামামা। এই আবহে এসআইআর-এ ৬০ লক্ষ বিচারাধীন নামের মধ্যে মোট ৩২ লক্ষ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৩ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ছবি। যেখানে মুখে এবং শরীরে কালি মাখা অবস্থায় কোনও একটি মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক ব্যক্তি।

অন্যদিকে তার পিছনে মঞ্চে লাগানো ব্যানারে লেখা রয়েছে, “ভারতীয় জনতা পার্টি, বেহালা পশ্চিম মণ্ডল ৫, সংবর্ধনা সভা।” ছবিটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, এসআইআর-এর নামে পশ্চিমবঙ্গের বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বেহালায় এক বিজেপি নেতার মুখে আলকাতরা ঢেলে দিয়েছে সাধারণ মানুষ। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ছবিটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, এস আই আরের রাগে মানুষ আলকাতরা ঢেলেছে বিজেপির নেতার ওপর বেহালাবাসী...।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ছবিটির সঙ্গে এসআইআর  কিংবা আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং সেটি ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ ঠাকুরপুকুরের আনন্দনগর বাজার এলাকায় দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যের এক অনুগামীর ওপর দলেরই অন্য গোষ্ঠীর কর্মীদের আক্রমণ এবং কালি ছোড়ার দৃশ্য।

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল দাবি ও ছবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম নিয়ে সেগুলি গুগুল লেন্সে অনুসন্ধান চালালে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ একটি এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ছবি-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর থেকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। অন্যদিকে ছবিটি তার অনেক আগে থেকে ইন্টারনেটে রয়েছে।

Advertisement

উক্ত এক্স হ্যান্ডেল থেকে ছবিটি শেয়ার করে তার ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “একটি বিবাদের সময় নিজের দলের কর্মীদের হাতেই আক্রান্ত হয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি জেলা সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য। তাঁর মুখে কালি মাখিয়ে দেওয়া হয়। এভাবেই পশ্চিমবঙ্গে ২০০-র বেশি আসন জিততে চলেছে বিজেপি।”

এরপর উক্ত তথ্যের উপরে ভিত্তি করে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ সংবাদ প্রতিদিন-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই একই ছবি-সহ বেশকিছু প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “দ্বিতীয়বারের জন্য দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি নির্বাচিত হন অনুপম ভট্টাচার্য। তাঁকে সংবর্ধনা প্রদানের জন্য বেহালার ঠাকুরপুকুরের আনন্দনগর বাজার এলাকায় বিজেপির তরফে একটি সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানের মাঝে অন্য গোষ্ঠীর একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক সেখানে পৌঁছন। কেন দীর্ঘদিনের তাদের সক্রিয় সদস্যপদ দেওয়া হচ্ছে না, সে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। তা নিয়ে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি তেতে ওঠে। শুরু হয় চেয়ার ছোড়াছুড়ি। জেলা বিজেপি সভাপতির এক অনুগামীর গায়ে কালি ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ।”

এখানে উল্লেখ্য, বুধবার নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া বিচারাধীন থাকা ৩২ লক্ষ ভোটারের মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এই ৩২ লক্ষ ব্যক্তির মধ্যে প্রায় ১২ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নাম বাদ যাওয়া ভোটারা বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেছেন এবং দাবি করেছেন, বৈধ ভোটার হওয়ার পরেও তাদের নাম এসআইআর-এ বাদ দেওয়া হয়েছে। 

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, এসআইআর বিরোধী বিক্ষোভ দাবিতে ছড়াল গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে বিজেপি নেতার গায়ে কালি ছোড়ার পুরনো ছবি।

Fact Check

Claim

এসআইআর-এর প্রতিবাদে বেহালায় এক বিজেপি নেতার মুখে আলকাতরা ঢেলে দিয়েছে সাধারণ মানুষ।

Conclusion

ভাইরাল ছবিটি ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ ঠাকুরপুকুরের আনন্দনগর বাজার এলাকায় দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যের এক অনুগামীর ওপর দলেরই অন্য গোষ্ঠীর কর্মীদের কালি ছোড়ার দৃশ্য।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement