Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: সাম্প্রতিক দাবিতে ছড়াল ইজরায়েলের উপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পুরনো সব ক্লিপ

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ছবি এবং ভিডিও দুটি সাম্প্রতিক নয়। বরং প্রথম এবং দ্বিতীয় ভিডিওটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ইজরায়েলের উপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য। অন্যদিকে ভাইরাল ছবিটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর প্যালেস্টাইনের গাজায় ইজরায়েলি বিমান হামলার দৃশ্য।

সুরাজউদ্দিন মণ্ডল
  • কলকাতা,
  • 01 Mar 2026,
  • अपडेटेड 3:28 PM IST

ফের একবার উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। গত শনিবার সকাল থেকে ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে একেরপর এক আক্রমণ শুরু করে ইজরায়েল ও মার্কিন সেনার যৌথ বাহিনী। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং তাঁর কন্যা, জামাই ও নাতনির মৃত্যু হয়েছে। এরপরই ইজরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, কাতারের দোহা এবং সৌদি আরবের রিয়াদ-সহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ২৭টি মার্কিন সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। 

আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে এই সংক্রান্ত দুটি ভিডিও এবং একটি ছবি। যেখানে প্রথম এবং দ্বিতীয় ভিডিওতে কোনও দুটি ভিন্ন স্থানে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে ভাইরাল ছবিটিতে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে রয়েছে কোনও একটি আবাসন তথা বিল্ডিং। এই দুটি ভিডিও এবং ছবিটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলি সম্প্রতি ইজরায়েলের উপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য।

উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল প্রথম ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ইরান ইসরাইল হামলা।”

আরও পড়ুন

অন্যদিকে দ্বিতীয় ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “কিছুক্ষণ আগে ইরানের ভয়াবহ হামলায় অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের।তেলআবিব শহর ভূমিদশ। শফল ভাবে হামলা চালিয়েছে ইরান। ১৭৬ ইহুদি জাহান্নামে পটিয়েছে ইরান।”
 

পাশাপাশি, ভাইরাল ছবিটি শেয়ার করে অন্য এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ইসরায়েলের বহুতল ভবনে ইরানের ভয়াবহ হামলা।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ছবি এবং ভিডিও দুটি সাম্প্রতিক নয়। বরং প্রথম এবং দ্বিতীয় ভিডিওটি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ইজরায়েলের উপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য। অন্যদিকে ভাইরাল ছবিটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর প্যালেস্টাইনের গাজায় ইজরায়েলি বিমান হামলার দৃশ্য।

সত্য উন্মোচন

প্রথম ভিডিও: ভাইরাল প্রথম ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর একটি এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও পাওয়া যায়। যদিও সেখানে ভিডিওটি কোনও স্থানের তা উল্লেখ করা হয়নি। এরপর এই সংক্রান্ত আরও অনুসন্ধান চালালে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর একটি ফেসবুক প্রোফাইলে এই একই ভিডিও পাওয়া যায় এবং সেখানে ভিডিওটিকে ইজরায়েলের তেল আভিবের ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ভিডিওটি সম্প্রতি অর্থাৎ চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর ইজরায়েল কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোনও মার্কিন ঘাটিতে ইরানের হামলার দৃশ্য নয়। 

Advertisement

দ্বিতীয় ভিডিও: দ্বিতীয় ভিডিওটি পর্যবেক্ষণের সময় আমরা লক্ষ্য করি সেটি মোট ৫টি ক্লিপের সমন্বয়ে তৈরি। যার মধ্যে প্রথম এবং তৃতীয় ক্লিপটি আমরা ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে খুঁজে পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ক্লিপ দুটি ওই বছরের ১ অক্টোবর ইজরায়েলের নেভাটিম বিমান ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য।


পাশাপাশি, দ্বিতীয় ভিডিও-র দ্বিতীয় ক্লিপটি ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ইজরায়েলি কূটনীতিক তথা রোমানিয়ায় ইজরায়েলের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত ডেভিড সারাঙ্গার অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ক্লিপ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ভিডিও-র চতুর্থ ক্লিপটি ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম Alwakaai-এ এবং পঞ্চম ক্লিপটি ওই বছরের ১ অক্টোবর একটি এক্স হ্যান্ডেলে পাওয়া যায়। সেখানে এই তিনটি ক্লিপকেই ২০২৪ সালের ১ এবং ২ অক্টোবর ইজরায়েলের বিভিন্ন প্রান্তে ইরানের বিমান হামলার দৃশ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভাইরাল ছবি: সব শেষে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে থাকা আবাসন তথা বিল্ডিংয়ের ভাইরাল ছবিটি নিয়ে অনুসন্ধান চালালে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর Moneycontrol-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই একই ছবি-সহ একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ছবিটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর প্যালেস্টাইনের গাজায় ইজরায়েলি বিমান হামলার দৃশ্য। 

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, সম্প্রতি ইজরায়েলের উপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য দাবি করে শেয়ার করা হচ্ছে পুরনো সব ভিডিও।

Fact Check

Claim

এই সাম্প্রতিক ছবি এবং ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে ইজরায়েলের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

Conclusion

ভাইরাল ছবি এবং ভিডিওগুলি সাম্প্রতিক নয়। বরং সবগুলিই দেড় থেকে দু’বছর আগের ঘটনা।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement