
সামনেই বিধানসভা ভোট। এই মুহূর্তে রাজ্যে জোরকদমে চলছে নির্বাচনী প্রচার। গত রবিবার বিজেপির হয়ে ভোটপ্রচারে রাজ্যে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি এবং নন্দকুমার ছাড়াও বাঁকুড়ার তিন জায়গায় জনসভা করেন তিনি। সেই সব সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে বাংলার আইন-শৃঙ্খলা এবং মহিলাদের সুরক্ষার বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যোগী। পাশাপাশি, বঙ্গেও বুলডোজার নীতি প্রয়োগের কথা বলেন তিনি।
এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে স্কুটি করে আসা এক যুবককে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক যুবতীর উপরে হামলা চালাতে এবং তার মোবাইল নিয়ে পালাতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সেটি যোগী আদিত্যনাথ নেতৃত্বাধীন বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশে একজন মহিলাকে প্রকাশ্য দিবালোকে শ্লীলতাহানির দৃশ্য।
উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “যোগী রাজ্যের মা বোনদের সঙ্গে প্রতি মূহুর্তে ঠিক এরকমই ঘটে, এদের জন্য আইন ব্যবস্থা নেই কারণ এটা বিজেপি শাসিত রাজ্য উঃ প্রদেশ। নারী সুরক্ষায় ইউপির মতো বাংলাকে ১ নম্বরে রাখতে চাইলে বিজেপিকে ভোট দিন....।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি উত্তর প্রদেশের নয়, এমনকি সেটি বিজেপি-শাসিত কোনও রাজ্যেরও নয়। বরং এটি ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আম আদমী পার্টি শাসিত পাঞ্জাবের অমৃতসরে এক যুবতীর থেকে তার মোবাইল ছিনতাইয়ের দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল দাবি এবং ভিডিও-র সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলি নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি একটি এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টের ক্যাপশন থেকে জানা যায়, সেটি পাঞ্জাবের অমৃতসরে এক যুবতীর থেকে তার মোবাইল ছিনতাইয়ের দৃশ্য। তবে মেয়েটি সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ করে এবং তার ফোনটি দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। কিন্তু তাকে সাহায্য করার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি।
অন্যদিকে Amar Ujala-র একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই ঘটনায় নির্যাতিতা যুবতী স্নেহা ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি অমৃতসরের ‘বি-ডিভিশন’ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ সিসিটিভি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত রাহুল ওরফে মিত্রুকে শনাক্ত করে। এবং তাকে অমৃতসরের বি-ডিভিশন থানার ভারপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর বলজিন্দর সিং-এর নেতৃত্বে পুলিশ একটি তদন্ত টিম জাহাজগড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।
এর থেকে প্রমাণ হয় যে, বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশের ঘটনা দাবি করে ছড়ানো হচ্ছে পাঞ্জাবের অমৃতসরের ভিডিও।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, যোগী আদিত্যনাথ নেতৃত্বাধীন বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশে একজন মহিলাকে প্রকাশ্য দিবালোকে শ্লীলতাহানির দৃশ্য।
ভিডিওটি উত্তর প্রদেশের নয়, এমনকি সেটি বিজেপি-শাসিত কোনও রাজ্যেরও নয়। বরং এটি ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আম আদমী পার্টি শাসিত পাঞ্জাবের অমৃতসরে এক যুবতীর থেকে তার মোবাইল ছিনতাইয়ের দৃশ্য।