Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: অসমের পঞ্চায়েতে সংঘর্ষের ভিডিওকে বঙ্গে রোহিঙ্গাদের দ্বারা TMC নেতাকে মারধর বলে দাবি 

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে ভিডিওটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে কোনও যোগ নেই। সেই সঙ্গে এখানে কোন তৃণমূল নেতা বা রোহিঙ্গাদের মারধরে লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে না। 

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 09 Aug 2025,
  • अपडेटेड 4:28 PM IST

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটি পক্ষের সংঘর্ষের একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়েছে যে, এটি পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা যেখানে আশ্রিত রোহিঙ্গারা পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও নেতাকে মারধর করেছে। 

১৬ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে একপক্ষকে অপরকে মারতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে এবং ভিডিও-র উপর লেখা হয়েছে, "বাংলাদেশী রোহিঙ্গা গুলো TMC নেতা কে উদোম মার দিচ্ছে।চোর মমতার উন্নয়ন লুঙ্গির তলায়।"

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে ভিডিওটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে কোনও যোগ নেই। সেই সঙ্গে এখানে কোন তৃণমূল নেতা বা রোহিঙ্গাদের মারধরে লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে না। 

আরও পড়ুন

সত্য উন্মোচন হলো যেভাবে 

ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে তার রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ওই একই ভিডিও পাওয়া যায় নিউজ ডেইলি ২৪ নামে একটি অসমীয়া চ্যানেলের এক্স হ্যান্ডেলে। ভিডিওটি অসমীয়া ভাষায় যে ক্যাপশন দেওয়া ছিল বাংলায় তার অনুবাদ দাঁড়ায়, "ডবোকায় যমুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রাম সভায় প্রচন্ড মারপিট। গ্রাম সভা চলার সময় দুই পক্ষের সংঘাত। ইয়াকুব আলি নামের ব্যক্তিকে চেয়ার দিয়ে মারা হয়।" ডবোকা জায়গাটি হোজাই জেলার অন্তর্গত। 

এই সূত্র ধরে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে ইন্ডিয়া টুডে নর্থ ইস্টের ইউটিউব চ্যানেলে ওই একই ঘটনার ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। গত ৪ অগস্ট আপলোড হওয়া এই ভিডিওতে গন্ডগোলের ঘটনা এবং এরপর আহত ব্যক্তিদের বক্তব্যও দেখা যাবে। ভিডিও-র সঙ্গে থাকা ক্যাপশন ও বিবরণ থেকে জানা যায়, অসমের ডবোকায় যমুনা গ্রাম পঞ্চায়েতে গ্রাম স্তরের একটি বৈঠক চলার সময় এক নির্বাচিত প্রতিনিধির আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরবর্তী সময়ে তারা হাতাহাতি ও মারপিটে জড়িয়ে পড়েন। 

এই সম্পর্কিত কিওয়ার্ড সার্চ করে ইন্ডিয়া টুডে নর্থ ইস্টের একটি প্রতিবেদনও মেলে। সেই খবর অনুযায়ী, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অতীত অভিযোগের জের ধরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বৈঠকটি সরকার-নির্দেশিত একটি উদ্যোগের অংশ ছিল। যেখানে স্থানীয় প্রশাসন নবনির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করার জন্য বিশেষ গ্রামসভা করার নির্দেশ দিয়েছিল। 

Advertisement

কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় দ্রুত তীব্র সংঘর্ষের আকার ধারণ করে। কয়েকজন প্লাস্টিকের চেয়ার ব্যবহার করে একে অপরের উপর আক্রমণ চালান। বেশ কয়েকজন আহত হন।

এরপর অসময়ের এই পঞ্চায়েতে তৃণমূল কোনও আসন জিতেছিল কিনা জানতে কিওয়ার্ড সার্চ করা হয়। তখন দেখা যায়, চলতি বছর মে মাসে হওয়া অসমের গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল সাকুল্যে পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেছে। তবে তার ডবোকার যমুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম ছিল না। দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেন। এই পাঁচটি আসন হলো, আচলপাড়া, বান্দিয়া, দামপুর, গোবিন্দপুর-আলগাপুর ও বিনোদিনী। 

জয়ী প্রার্থীরা হলেন কামরূপের আচলপাড়ায় মহম্মদ সফিকুল ইসলাম, দামপুরে বদর আলি শইকিয়া, দরংয়ের বান্দিয়ায় আক্কাস আলি, শ্রীভূমির বিনোদিনীতে ফয়েজ আহমেদ এবং কাছাড় গোবিন্দপুর-আলগাপুর আসনে ফরিদা বড়ভুঁইঞা। 

সবমিলিয়ে বুঝতে বাকি থাকে না যে অসমের একটি অসম্পর্কিত ভিডিও বিভ্রান্তিকর দাবিতে ভাইরাল হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। 

Fact Check

Claim

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে থাকা রোহিঙ্গারা কীভাবে তৃণমূল নেতাকে মারধর করছে।

Conclusion

ভাইরাল ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয় বরং অসমের হোজাই জেলার ডবোকা অন্তর্গত যমুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের। একটি বৈঠক চলাকালীন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আত্মীয়-স্বজনেরা এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।  

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement