Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: ফিলিস্তিনের এই ছোট্ট মেয়েটি আদৌ ইজরায়েলের কারাগারে বন্দি ছিল না, জানুন আসল কাহিনি

ছবিটি শেয়ার করে অনেকেই দাবি করছেন যে এই শিশুটিকে ইজরায়েলের কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছিল, এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার পর ছবিটি তোলা হয়েছে।

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 28 Nov 2023,
  • अपडेटेड 12:05 PM IST

দীর্ঘ প্রায় দেড়মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও মৃত্যুমিছিলের পর অবশেষে ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে কয়েকদিন আগেই। সেই যুদ্ধবিরতির মাঝে শর্তসাপেক্ষে দুই দেশই মুক্তি দিয়েছে তাদের নিজের নিজের জেলে আটকে রাখা ইজরায়লি ও ফিলিস্তিনি বন্দিদের। এর মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছোট্ট মেয়ের ছবি বেশ ভাইরাল হয়েছে।

মেয়েটিকে মুখে মিষ্টি হাসি নিয়ে ফিলিস্তিনের পতাকা কাঁধে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটি শেয়ার করে অনেকেই দাবি করছেন যে এই শিশুটিকে ইজরায়েলের কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছিল, এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার পর ছবিটি তোলা হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, একাধিক পেজ থেকে ছবিটি শেয়ার করে লেখা হয়েছে, "ইসরায়েলী কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া পরী।"

কেউ আবার লিখেছেন, "জালিম জুলুমবাজ ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে ফিলিস্তুিনি পরী।আলহামদুলিল্লাহ।"

ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে এই শিশুটি ইজরায়েলের কারাগারে বন্দি ছিল না। বরং তার মা বন্দি ছিল ও শিশুটি মায়ের জন্য অপেক্ষা করছিল।

কীভাবে জানা গেল সত্যি

ভাইরাল ছবিটিকে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খোঁজার পর ওই ছবিটি আমরা সবার প্রথম দেখতে পাই একটি এক্স (আগে টুইটার) হ্যান্ডেলে। একটি পোস্টে ওই মেয়েটির পাশাপাশি আরেক মহিলার ছবি শেয়ার করে লেখা হয়, এই হিজাব পরিহিত নারীর নাম ফাতিমা শাহিন, তাঁর বয়স ৩৩। তাঁর মেয়েই অপেক্ষা করছে মায়ের মুক্তি পাওয়ার।

 

 

অর্থাৎ এই টুইটে দাবি করা হয় যে ফাতিমা শাহিন নামক মহিলা কারাবন্দি ছিলেন ও তাঁর মেয়ে মায়ের মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সেখানে আরও লেখা হয় যে, "ইজরায়লি প্রতিরক্ষা বাহিনি ফাতিমাকে গুলি মারে ও পরে গ্রেপ্তার করে। যার দরুন তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ফলে তাঁকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে হয়েছিল। আঘাতের কারণে তাঁর কিডনি এবং যকৃতের ৫০% সরানো হয়েছে।“

Advertisement

এই বিষয়গুলিকে সূত্র ধরে এরপর আমরা কিছু কিওয়ার্ড সার্চ করি ও দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদন দেখতে পাই যা গত ২৫ নভেম্বর প্রকাশ পেয়েছিল। সেই প্রতিবেদনের মূল ছবিতে ফাতিমা শাহিনকে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর মেয়ের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। সেখানে লেখা হয়, এই ছবিটি ফাতিমা ইজরায়লি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তোলা হয়েছে।

একটি অন্য সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে এই শিশুটির নাম আইলোউল শাহিন। মায়ের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় তার আরেকটি ছবি এখানে দেখতে পাওয়া যাবে।

তবে এ কথা বলে রাখা দরকার যে ইজরায়েলের কারাগারে বেশ কিছু কিশোর ও শিশুও বন্দি ছিল যাদের মধ্যে অনেককেই বিগত কয়েকদিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের মুক্তি পাওয়ার বিশদ তথ্য সিএনএন-র এই রিপোর্টে দেখা যাবে। 

অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে যে আলোচ্য ছবিতে যে শিশুটিকে দেখা যাচ্ছে সে ইজরায়েলের কারাগারে বন্দি ছিল না, বরং সে মায়ের মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছিল। 

 

 

Fact Check

Claim

ছবিতে এক ফিলিস্তিনি শিশুকে দেখা যাচ্ছে যে ইজরায়েলের কারাগারে বন্দি ছিল।

Conclusion

ছবিতে থাকা বাচ্চা মেয়েটি নয়, বরং তার মা বন্দি ছিল ইজরায়েলের কারাগারে।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement